গত মাসে উত্তরার এক শিক্ষার্থী আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, Croatia-র ফাইলটা এত ঘোলাটে লাগে কেন। তিনি যত ওয়েবসাইট পড়েছেন, সবাই বলেছে "Croatia student visa-র জন্য আবেদন করুন" — অথচ Croatia সরকারের নিজের পাতায় ওই শব্দটাই নেই। এটা অনুবাদের গণ্ডগোল নয়। বরং এক টাকা খরচ করার আগে Croatia সম্পর্কে যা জানা সবচেয়ে দরকারি, সেটা এখানেই: আপনি আসলে আবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার উদ্দেশ্যে temporary stay-র জন্য, আর ভিসা — যদি আদৌ লাগে — আসে তার পরে।
আলাদা কোনো "Croatia student visa" নেই। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য temporary stay-র আবেদন করেন, তারপর যাত্রার জন্য long-stay (D) ভিসা নেন। সরকারি ফি সব মিলিয়ে প্রায় EUR ৮৭.৫৯, অর্থাৎ প্রায় ১২,৬০০ টাকা। শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে পারেন, আর পড়া শেষে চাকরি খুঁজতে এক বছর থাকতে পারেন — যা আরও এক বছর বাড়ানো যায়।
এই লেখাটা বাংলাদেশ থেকে Croatia student visa নিয়ে — ২০২৬ সালে Croatia-র কর্তৃপক্ষ যেভাবে নিয়মটা বর্ণনা করছে, ২০২৭ সালের ইনটেকের কথা মাথায় রেখে। আসল ফি, কাজের সময়ের আসল সীমা, ঢাকার যে ধাপটার কথা প্রায় কেউ বলে না, আর যেসব চালু সংখ্যা এখন পুরোনো হয়ে গেছে — সবই এখানে। প্রতিটি তথ্যের উৎস দেওয়া আছে, আর যেখানে সূত্রগুলোর মধ্যে মিল নেই সেখানে সুন্দর উত্তরটা বেছে না নিয়ে আমরা অমিলটাই বলে দিয়েছি।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য "Croatia student visa" আসলে আছে কি?
নেই — আর এটা ভুল বুঝলে আপনার পুরো সময়সূচি উল্টে যায়। ইউরোপীয় কমিশনের EU Immigration Portal-এর Croatia পাতাটি সর্বশেষ হালনাগাদ হয়েছে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, আর সেখানে ধাপগুলো পরিষ্কার: Croatia-য় পড়তে চাওয়া তৃতীয় দেশের নাগরিককে "বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার উদ্দেশ্যে temporary stay নিয়মিত করতে হবে"। তারপর পাতাটি যোগ করে, ঢুকতে যদি ভিসা লাগে তবে Croatia-র কূটনৈতিক মিশনে "long-term visa (visa D)"-র জন্য আবেদন করতে হবে।
অর্থাৎ residence-এর অনুমোদন আগে, ভ্রমণের ভিসা পরে। UK বা Malta-য় ঠিক উল্টো — সেখানে ভিসাই মূল সিদ্ধান্ত, আর residence পরে কেবল কাগুজে কাজ।
temporary stay-র আবেদন দুই জায়গায় করা যায়: নিজের দেশে Croatia-র কূটনৈতিক মিশন বা কনস্যুলার পোস্টে সশরীরে, অথবা Croatia-য় থাকলে সেখানকার police administration বা police station-এ — short-stay ভিসায় থাকলেও চলবে। দুটোই বৈধ পথ। তবে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীর জন্য দুটো সমান স্বস্তিদায়ক নয়, আর কোনটা বেছে নেবেন সেটা অনুমান করার চেয়ে একজন কাউন্সেলরের সঙ্গে বসে ঠিক করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
মন্ত্রণালয় যদি আপনার temporary stay নাকচ করে, তাহলে আপিলের কোনো সুযোগ নেই। EU Immigration Portal সোজাসুজি লিখেছে: "No appeal shall be admissible against the decision of the Ministry." একমাত্র উপায় Zagreb, Split, Rijeka বা Osijek-এর প্রশাসনিক আদালতে মামলা, লিখিত সিদ্ধান্ত হাতে পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে। বাংলাদেশে বসে থাকা একজন শিক্ষার্থীর জন্য এটা বাস্তবসম্মত কোনো বিকল্প নয়। ফাইলটা প্রথমবারেই নিখুঁত হতে হবে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কোথায় আবেদন করবেন — ভারতে যেতেই হবে?
বাংলাদেশে Croatia-র দূতাবাস নেই। নয়াদিল্লিতে Croatia-র দূতাবাস বাংলাদেশ দেখে, আর তাদের কনস্যুলার পাতায় লেখা আছে যে Bangladesh, Sri Lanka, Nepal, Bhutan ও Maldives-এর আবেদনকারীকে "নয়াদিল্লিতে Croatia প্রজাতন্ত্রের দূতাবাসে নিজে হাজির হতে হবে"।
শুধু ওই লাইনটা পড়লে আপনি দিল্লির টিকিট কাটবেন। পরের অনুচ্ছেদটা পড়লে এমন এক ব্যতিক্রম পাবেন, যা পুরো আবেদনের খরচের হিসাবই বদলে দেয়:
দূতাবাসের নিজের পাতাতেই আছে, "ব্যতিক্রম হিসেবে Sri Lanka, Nepal ও Bangladesh-এর আবেদনকারীরা যথাক্রমে Colombo, Kathmandu ও Dhaka-র Croatian Honorary Consulate-এ personal verification-এর জন্য যেতে পারেন। যাচাইয়ের পর তাঁরা প্রতিনিধি বা ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে ভারতের যেকোনো VFS Centre-এ ভিসার আবেদন করতে পারেন।"
একই পাতার তিনটি খুঁটিনাটি এই সুযোগটাকে সত্যিই কাজে লাগানোর মতো করে তোলে: Honorary Consulate-এর personal verification কোনো ইন্টারভিউ নয়; আবেদনকারীকে "কেবল নিজের মূল পাসপোর্ট নিয়ে যেতে হবে"; আর আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া বাধ্যতামূলক, যেটা ঠিক হয় দূতাবাসের Visa/Consular Office-এ ইমেইল করলে — তারাই Honorary Consulate-এ সময় নেওয়ার পদ্ধতি জানিয়ে দেয়।
Croatia ২০২৫ সালে বাংলাদেশে একজন Honorary Consul নিয়োগ দিয়েছে, আর কনস্যুলেটটি ঢাকার বনানী থেকে চলে। ব্যাপারটা নতুন — এ কারণেই বিদেশে পড়াশোনার বহু ওয়েবসাইট এখনও এটা ধরতে পারেনি।
ঢাকা পেরিয়ে রওনা দেওয়ার আগে কনস্যুলেটের তথ্য যাচাই করে নিন। দূতাবাসের তুলনায় Honorary Consulate-এর ঠিকানা, সময় আর দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি অনেক বেশি বদলায়, আর অ্যাপয়েন্টমেন্টটাও হয় নয়াদিল্লির দূতাবাসের মাধ্যমে — হেঁটে গিয়ে হাজির হয়ে নয়। আগে দূতাবাসের Visa/Consular Office-এ ইমেইল করুন, তারাই পথ দেখিয়ে দেবে। আরেকটা কথা: দূতাবাসের ওই পাতায় এখনও ফি লেখা আছে Croatian kuna-য়, আর বলা আছে "Croatia পুরোপুরি Schengen acquis প্রয়োগ না করা পর্যন্ত" — অথচ Croatia ১ জানুয়ারি ২০২৩-এ ইউরো নিয়েছে এবং Schengen-এ ঢুকেছে। তাই পাতাটির কিছু অংশ স্পষ্টতই পুরোনো, ওগুলোকে চূড়ান্ত নয়, ইঙ্গিত হিসেবে দেখুন।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য Croatia-য় পড়তে আসলে কত খরচ?
UK-র চেয়ে কম, তবে "ইউরোপে বিনা পয়সায় পড়ুন" ধাঁচের পোস্টগুলো যা বোঝায় ততটা কম নয়। Croatia-র উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য পরিচালিত সরকারি Study in Croatia পোর্টাল টিউশনের একক কোনো অঙ্ক দেয় না, ধাপে ধাপে পরিসর দেয় — কারণ প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজের ফি নিজে ঠিক করে।
| খাত | সরকারি পরিসর | আনুমানিক টাকা | অবস্থা |
|---|---|---|---|
| প্রাকৃতিক ও কারিগরি বিজ্ঞান | EUR ১,০০০–৬,০০০ / বছর | ১.৪৩–৮.৬০ লাখ | সূত্রসহ |
| মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান | EUR ১,১০০–১০,৪০০ / বছর | ১.৫৮–১৪.৯ লাখ | সূত্রসহ |
| চিকিৎসাশাস্ত্র | EUR ১০,০০০–১২,০০০ / বছর | ১৪.৩–১৭.২ লাখ | সূত্রসহ |
| আবেদন ফি | EUR ৬০–৩০০ | ৮,৬০০–৪৩,০০০ | সূত্রসহ |
| temporary stay প্রক্রিয়া | EUR ৪৬.৪৫ | ৬,৬৬০ | সূত্রসহ |
| বায়োমেট্রিক কার্ড (সাধারণ) | EUR ৩১.৮৫ | ৪,৫৭০ | সূত্রসহ |
| বায়োমেট্রিক কার্ড (দ্রুত) | EUR ৫৯.৭৩ | ৮,৫৬০ | সূত্রসহ |
| কার্ডের বাড়তি ফি | EUR ৯.২৯ | ১,৩৩০ | সূত্রসহ |
| জীবনযাত্রার খরচ | সরকারিভাবে নির্ধারিত নয় | — | অনিশ্চিত |
সরকারি তিনটি ফি যোগ করলে সাধারণ পথে মোট দাঁড়ায় EUR ৮৭.৫৯, প্রায় ১২,৬০০ টাকা। দ্রুত কার্ড নিলে সেটা বেড়ে হয় প্রায় EUR ১১৫.৪৭, অর্থাৎ ১৬,৫৫০ টাকা। হিসাবটা ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রায় EUR ১ = ১৪৩.৪ টাকা ধরে করা, আর এই হার বদলাবে — তাই টাকার ঘরটাকে দর নয়, আন্দাজ হিসেবেই নিন।

কত টাকা দেখাতে হবে — আর অনলাইনের সংখ্যাগুলো ভুল কেন?
এখানে আত্মবিশ্বাসী কোনো সংখ্যার চেয়ে সৎ উত্তরই আপনার বেশি কাজে দেবে। Croatia-র আইনে "জীবনযাত্রার খরচ মেটানোর মতো যথেষ্ট সম্পদের প্রমাণ" লাগে, সঙ্গে ফেরার যাত্রার খরচও, আর সর্বনিম্ন অঙ্কটা ঠিক করে দেয় means of subsistence হিসাব করার একটি প্রবিধান। Croatia ১ জানুয়ারি ২০২৩-এ kuna ছেড়ে ইউরোতে গেছে, অথচ ইংরেজি ভাষার বহু পাতা এখনও kuna-র সেই সীমা দেখাচ্ছে, যেগুলোর আর অস্তিত্বই নেই।
দ্বিতীয় ফাঁদটা মাপের। "Croatia financial requirement" লিখে খুঁজলে মাসে প্রায় EUR ৩,৬০০ ধরনের সংখ্যা সামনে আসবে। ওগুলো আসলে digital nomad residence permit-এর, যা Croatia-র গড় নিট বেতনের একটা গুণিতকের সঙ্গে বাঁধা। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই, আর ঢাকার কোনো পরিবারকে ওই অঙ্ক শোনালে এমন একজন প্রার্থী ভয় পেয়ে সরে যাবেন যিনি Croatia আরামসেই চালাতে পারতেন।
শিক্ষার্থীদের subsistence নিয়ে অনলাইনে পাওয়া যেকোনো অঙ্ককে অনিশ্চিত ধরুন — ২০২৭ সালের জন্য অন্য কোথাও দেখা সংখ্যাগুলোও। বাধ্যতামূলক অঙ্কটা আসে Croatia-র চলতি প্রবিধান থেকে, আর সেটা প্রয়োগ করে আপনার ফাইল যে police administration দেখছে তারা — আর কর্মকর্তাদের হাতে বিবেচনার সুযোগও থাকে। টাকা সরানোর আগে আপনার শহরের police administration বা মিশন থেকে অঙ্কটা লিখিতভাবে নিয়ে নিন। আলাদা short-stay (C) ভিসার জন্য অবশ্য দূতাবাস স্পষ্ট সংখ্যা দেয়: থাকার প্রতিদিনের জন্য EUR ৭০, আর guarantee letter বা পুরোপুরি পরিশোধিত থাকার ব্যবস্থা থাকলে দিনে EUR ৩০, সঙ্গে কমপক্ষে EUR ৩০,০০০-এর ট্রাভেল মেডিকেল ইনস্যুরেন্স।
পড়ার পাশাপাশি কাজ করা যায় — ১৫ ঘণ্টা না ২০?
২০। এটা জরুরি, কারণ ভুল সংখ্যাটা বেশ ছড়িয়েছে — এমনকি বাংলাদেশি কিছু কনসালটেন্সির পাতায়ও, যারা আবার সেটার কৃতিত্ব দিচ্ছে EU portal-কে। অথচ EU Immigration Portal-এর Croatia পাতা ঠিক উল্টোটা বলছে: "ক্লাসের সময়ের বাইরে শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা চাকরি বা স্বনিযুক্ত অর্থনৈতিক কাজ করতে পারবেন।"
দুটো শর্ত এই কথাটাকে সৎ রাখে। সীমাটা প্রযোজ্য ক্লাসের সময়ের বাইরে, কাজেই এটা ক্লাস কামাই করার ছাড়পত্র নয়। আর Croatia-য় শিক্ষার্থীদের কাজ সাধারণত Student Service (Studentski centar) ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে হয় — তাই আয়ের ওপর ভরসা করার আগে শুধু সীমাটা নয়, পদ্ধতিটাও বোঝা দরকার।
পূর্ণকালীন কোর্সের অংশ হিসেবে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ করছেন এমন শিক্ষার্থী আলাদা work permit বা কাজের নিবন্ধন সনদ ছাড়াই কাজ করতে পারেন, যদি প্লেসমেন্টটি অনুমোদিত সংস্থা কিংবা EU বা বহুপাক্ষিক গতিশীলতা কর্মসূচির মাধ্যমে হয় এবং ৯০ দিন বা তার কম চলে। ৯০ দিনের বেশি হলে temporary stay নিয়মিত করতেই হবে। প্লেসমেন্টের নিয়ম না জেনে অনিচ্ছাকৃত আইনভঙ্গের ঘটনা প্রায়ই ঘটে — কিছুতে সই করার আগে নিজেরটা দেখে নিন।
পড়া শেষে কী হয় — কতদিন থাকা যায়?
বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যতটা আশা করেন তার চেয়ে ভালো, আর সাধারণত যে এক বছরের কথা প্রচার করা হয় তার চেয়েও ভালো। পড়া শেষ করার পর তৃতীয় দেশের নাগরিকেরা এক বছর থাকতে পারেন, আর "চাকরি খোঁজা বা ব্যবসা শুরু করার জন্য তা আরও এক বছর বাড়ানো যায়"। অর্থাৎ হাতে সময় এক বছর নয়, দুই — শর্ত হলো নবায়নের আবেদনটা ঠিকমতো করতে হবে।
তবে দীর্ঘমেয়াদি হিসাবে একটা প্যাঁচ আছে, আর সেটা ঠিক যেমনটা Türkiye-তেও দেখা যায়। পরে long-term residence-এর আবেদন করলে "বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য পাওয়া temporary stay permit-এর সময়ের কেবল অর্ধেক গণনায় ধরা হবে"। তিন বছরের স্নাতক ডিগ্রি long-term residence-এর দিকে যোগ করে আঠারো মাস, তিন বছর নয়। যদি ডিগ্রির চেয়ে Croatia-য় স্থায়ী হওয়াই আপনার আসল লক্ষ্য হয়, তবে এই অর্ধেক হয়ে যাওয়ার হিসাবটা প্রথম দিন থেকেই আপনার পরিকল্পনায় থাকা উচিত।
বাংলাদেশি আবেদনকারীরা কোন কাগজে হোঁচট খান?
temporary stay-র কাগজের তালিকা ছোট। ঝামেলাটা জমে আছে মূলত দুটো জিনিসে।
- বৈধ ভ্রমণ নথির কপি।
- রঙিন ছবি — খেয়াল করুন, temporary stay প্রক্রিয়ায় বলা আছে ৩০×৩৫ মিমি, আর short-stay ভিসার তালিকায় ৩৫×৪৫ মিমি। মাপ দুটো আলাদা। আপনার ধাপে কোনটা লাগবে যাচাই করুন।
- জীবনযাত্রার খরচ ও ফেরার যাত্রার জন্য যথেষ্ট সম্পদের প্রমাণ।
- স্বাস্থ্যবিমার প্রমাণ।
- নিজ দেশে — কিংবা Croatia-য় আসার ঠিক আগে যে দেশে এক বছরের বেশি ছিলেন সেখানে — কোনো ফৌজদারি দণ্ড না থাকার প্রমাণ, আর প্রথম permit-এর জন্য সেটি যথাযথভাবে legalised হতে হবে।
- Croatia-র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রমাণ।
- আবেদনকারী অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে অভিভাবকের অনুমতিপত্র।
১৯৬১ সালের Apostille Convention বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হয়েছে ৩০ মার্চ ২০২৫ থেকে। বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে Croatia আপত্তি জানায়নি, তাই বাংলাদেশি apostille Croatia-র "যথাযথভাবে legalised" শর্ত পূরণ করে। সময় আর কনস্যুলার ফি — দুটোতেই এটা বড় সাশ্রয়।
তবে এটাকে সবার ক্ষেত্রে খাটাবেন না। বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে বারোটি দেশ আপত্তি জানিয়েছে, আর সেসব দেশের জন্য শিক্ষার্থীদের এখনও পুরো consular legalisation লাগে। Croatia-র পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কম খরচের যেসব ইউরোপীয় গন্তব্য বাছাই করেন, তার মধ্যে Lithuania আর Czech Republic দুটোই আপত্তি জানিয়েছিল। Zagreb-এ যে পথ কাজ করে, Vilnius-এ সেটা করে না।
সময় নিয়ে আরেকটা খুঁটিনাটি নীরবে ফাইল ডুবিয়ে দেয়: দূতাবাসের তালিকা অনুযায়ী পাসপোর্ট ছাড়া বাকি সব সংযুক্ত কাগজ জমা দেওয়ার সময় তিন মাসের বেশি পুরোনো হওয়া চলবে না। অথচ তাদেরই ডাউনলোডযোগ্য PDF-এ লেখা ছয় মাস। একই মিশনের দুটো সরকারি পাতা যখন আলাদা কথা বলে, তখন কড়া নিয়মটা ধরেই প্রস্তুতি নিন।
২০২৭ সালের বাস্তবসম্মত সময়সূচি কেমন?
Croatia কি আপনার তালিকায় থাকার মতো?
Eduvisa-য় আমরা দেখি, কম খরচের ইউরোপীয় গন্তব্য মেলাতে গিয়ে পরিবারগুলো সাধারণত টিউশন মেলায় — অথচ পাতার সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যাটাই ওই টিউশন। আসল প্রশ্ন তিনটি: বাংলাদেশ যে মিশনের অধীনে পড়ে সেটায় পৌঁছানো যায় কি না, আপনার কাগজপত্র ওই দেশ যে পথে মানে সেভাবে legalise করা যায় কি না, আর পড়া শেষে থাকার সময়টা ডিগ্রিকে চাকরিতে বদলানোর মতো লম্বা কি না। Croatia তিনটিতেই ভালো করে — বাধ্যতামূলক দিল্লি সফরের বদলে ঢাকায় যাচাইয়ের ধাপ, কার্যকর apostille পথ, আর এক বছরের বদলে দুই বছরের stay-back।
সতর্কতা দরকার টাকার প্রশ্নে। বাধ্যতামূলক subsistence-এর অঙ্কটা এমনভাবে প্রকাশিত নয় যে নিশ্চিন্তে উদ্ধৃত করা যায়, আর আপিল না থাকার নিয়মের কারণে দুর্বল আর্থিক উপস্থাপনার দ্বিতীয় সুযোগ নেই। এটা ফাইল তৈরির সমস্যা, আর ফাইল তৈরি চেকলিস্ট নয় — আলোচনা।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে কম খরচে বিদেশে পড়ার উপায় · বাংলাদেশ থেকে Latvia student visa
এখানে ব্যবহৃত সরকারি সূত্র: ইউরোপীয় কমিশনের EU Immigration Portal — Student in Croatia এবং নয়াদিল্লিতে Croatia প্রজাতন্ত্রের দূতাবাসের কনস্যুলার পাতা।
পরিধি নিয়ে একটি কথা। এই লেখাটি Croatia নিয়ে ভাবছেন এমন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্লগ গবেষণা। Eduvisa এখন Croatia-র আবেদন প্রক্রিয়া করে, এমন ঘোষণা এটি নয়। ভিসার নিয়ম, ফি আর সীমা বদলায়, আর এখানে উদ্ধৃত কয়েকটি সরকারি পাতায় স্পষ্টতই পুরোনো অংশ রয়ে গেছে — আপনার টাকা, কাগজ বা তারিখে প্রভাব ফেলে এমন যেকোনো তথ্য কাজে লাগানোর আগে দূতাবাস, Honorary Consulate বা আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যাচাই করে নিন।
Croatia আপনার বাজেট আর ফলাফলের সঙ্গে মেলে কি না, ভাবছেন?
প্রকাশিত টিউশনের পরিসর অনেক চওড়া, subsistence-এর অঙ্কটা কারও ওয়েবপেজ দেখে বলে দেওয়ার মতো নয়, আর সঠিক আবেদনের পথ নির্ভর করে আপনার কাগজপত্র আর সময়সূচির ওপর। ট্রান্সক্রিপ্ট আর অর্থায়নের হিসাব নিয়ে আমাদের অফিসে আসুন, আমরা খোলামেলাভাবে সব দেখিয়ে দেব — অন্য কোনো দেশ আপনার জন্য বেশি মানানসই হলে সেটাও বলব।
ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন →