মূল অংশে যান
← ব্লগে ফিরে যান

বাংলাদেশ থেকে Greece স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭: পূর্ণ গাইড

বাংলাদেশ থেকে Greece স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭: আবেদন ঢাকাতেই, দিল্লিতে নয়। টাকায় প্রকৃত খরচ, মাসে €৪০০ ফান্ডের নিয়ম আর অ্যাপোস্টিলের ফাঁদ—সব এক জায়গায়।

প্রকাশিত 11 Sep, 2026 greece

Read in English →
বাংলাদেশ থেকে Greece স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭: পূর্ণ গাইড

Greece-এর স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি যে কথাটা শোনা যায়, সেটা হলো—"দিল্লি যেতেই হবে"। ঢাকার আধা ডজন কনসালটেন্সির ওয়েবসাইটে কথাটা লেখাও আছে। অথচ কথাটা ঠিক নয়। আর এই ভুল ধারণার ওপর ভরসা করলে পুরো একটা intake হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

এই লেখায় বাংলাদেশ থেকে Greece স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭-এর পুরো ছবিটা আছে—আবেদন আসলে কোথায় জমা দেবেন, টাকার অঙ্কে খরচ কত, ব্যাংকে কত দেখাতে হবে, আর ২০২৫ সালে বদলে যাওয়া যে ডকুমেন্ট-নিয়মটা বাংলাদেশের বাজারে এখনো প্রায় কেউ হালনাগাদ করেনি।

€৪০০পড়ার প্রতি মাসের জন্য ন্যূনতম ফান্ড
৳১০,২০০ফাইল দিল্লি পাঠানোর কুরিয়ার ফি
১.৫ বছরD ভিসার জন্য পাসপোর্টের ন্যূনতম মেয়াদ
১ বছরপড়া শেষে চাকরি খোঁজার পারমিট

Greece-এর স্টুডেন্ট ভিসার জন্য কি সত্যিই নয়াদিল্লি যেতে হয়?

না। বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত Greek ভিসা সেন্টারের নিজস্ব ওয়েবসাইটে পরিষ্কার লেখা আছে—বাংলাদেশি সব আবেদনকারীকে Long Stay "D" ভিসার আবেদন কেবল ঢাকার GVCW ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারেই জমা দিতে হবে। বায়োমেট্রিক, অর্থাৎ দশ আঙুলের ছাপ আর ডিজিটাল ছবি—সেটাও নেওয়া হয় ওই সেন্টারেই।

তবে একটা কথা সত্যি: ঢাকায় কেউ আপনার ফাইলের সিদ্ধান্ত নেয় না। বাংলাদেশে Greece-এর ভিসা দেওয়ার মতো কোনো দূতাবাস নেই। আপনার কাগজের ফাইলটা কুরিয়ারে সীমান্ত পেরিয়ে যায় নয়াদিল্লির Greek Embassy-তে। তারা ফাইল দেখে, দরকার হলে ইন্টারভিউয়ে ডাকে, তারপর ভিসা দেয় বা নাকচ করে। এরপর পাসপোর্ট আবার ঢাকায় ফেরে। এই যাওয়া-আসার জন্যই সেন্টার বলে দেয়, প্রকাশিত প্রসেসিং সময়ের সঙ্গে অন্তত সাত কর্মদিবস বাড়িয়ে হিসাব করতে।

তাহলে ভাগটা এ রকম—জমা আর বায়োমেট্রিক বাংলাদেশে, সিদ্ধান্ত ভারতে। পার্থক্যটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে আপনার পরিকল্পনাই বদলে যায়। ভারতীয় ভিসা আর দিল্লির ফ্লাইটের বাজেট আপনার লাগছে না; লাগছে একটা কুরিয়ার ফি আর একটু লম্বা ক্যালেন্ডার।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য Greece স্টুডেন্ট ভিসার খরচ আসলে কত?

প্রতিযোগী ওয়েবসাইটগুলো যা বলে তার চেয়ে বেশি, কারণ তিনটা আলাদা চার্জ একটার ওপর আরেকটা বসে। ভিসা ফি এর মধ্যে কেবল প্রথমটা।

খরচপরিমাণটাকায়ফেরতযোগ্য?
স্টাডি "D" ভিসা ফি€৯০≈ ৳১২,৭৮০না
GVCW সার্ভিস ফি€৩০≈ ৳৪,২৬০না
ক্রস-বর্ডার কুরিয়ারনির্দিষ্ট৳১০,২০০না
ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স (১ বছর)ভিন্নভিন্ননির্ভরশীল
মেডিকেল পরীক্ষাভিন্নভিন্ননা
মূল মোট€১২০ + ফি≈ ৳২৭,২৪০না

দুটো বিষয় মাথায় রাখুন। €৩০ সার্ভিস ফি প্রতিদিন European Central Bank-এর ইউরো-টাকা রেট ধরে নতুন করে হিসাব হয়, তাই ফোনে যে অঙ্ক শুনবেন কাউন্টারে সেটা মিলবে না। আর ৳১০,২০০ কুরিয়ার ফি জমা দেওয়ার দিন নগদে দিতে হয়। টাকাটা হাতে নিয়ে যাবেন।

দেওয়ার আগে যাচাই করে নিন। ওপরের টাকার হিসাব ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ প্রতি ইউরো প্রায় ৳১৪২ ধরে করা আমাদের নিজস্ব অনুমান, কোনো সরকারি অঙ্ক নয়। ভিসা ও সার্ভিস ফি ইউরোতে নির্ধারিত এবং সেন্টার বলছে আগাম নোটিশ ছাড়াই তা বদলাতে পারে। অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন সেন্টার থেকে সঠিক অঙ্ক জেনে নেবেন।

Greece স্টুডেন্ট ভিসার জন্য ব্যাংকে কত টাকা দেখাতে হয়?

শর্তটা থোক অঙ্কে নয়, মাসিক হিসাবে বলা—পড়াশোনার সময়কালে জীবনযাত্রার খরচ চালানোর প্রমাণ, মাসে অন্তত €৪০০-এর সমপরিমাণ। চার বছরের স্নাতকের ক্ষেত্রে দূতাবাস এই বাক্যটা কীভাবে পড়ে তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর ব্লগ থেকে নয়, আপনার নিজের ফাইল দেখে দেওয়াই নিরাপদ।

আক্ষরিক অর্থে ধরলে মাসে €৪০০ মানে প্রায় ৳৫৬,৮০০, অর্থাৎ বারো মাসের জন্য প্রায় ৳৬.৮ লাখ। ইউরোপের মানদণ্ডে এটা সত্যিই কম—Italy বা Czech Republic-এর যে অঙ্কগুলো বাংলাদেশি পরিবারগুলো শুনে অভ্যস্ত, তার চেয়েও কম।

এর বাইরে আরেকটি শর্ত অনেককে বিপদে ফেলে: স্টাডি চেকলিস্টে টিউশন ফির অন্তত এক-তৃতীয়াংশ পরিশোধের প্রমাণ চাওয়া হয়, ভিসার সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই। অর্থাৎ বছরে €৬,০০০ টিউশনের প্রোগ্রাম হলে ভিসা পাবেন কি না জানার আগেই প্রায় €২,০০০ অ্যাকাউন্ট থেকে চলে যাচ্ছে। একে নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বাস্তব ঝুঁকি হিসেবেই ধরুন।

Greece স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭ আবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত Athens-এর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দৃশ্য
Greece-এ পাবলিক টিউশন কম—তবে সস্তা ডিগ্রিগুলো বেশিরভাগই Greek ভাষায় পড়ানো হয়।

বাংলাদেশের অ্যাপোস্টিল কি Greece-এ কাজ করে?

না। আর এই গাইডের সবচেয়ে জরুরি তথ্য এটাই।

বাংলাদেশ ১৯৬১ সালের Hague Apostille Convention-এ যোগ দেয় ২৯ জুলাই ২০২৪, কার্যকর হয় ৩০ মার্চ ২০২৫। তবে ওই কনভেনশনের ১২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পুরনো সদস্য দেশ নতুন সদস্যের যোগদানে আপত্তি জানাতে পারে—আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বারোটি দেশ আপত্তি জানিয়েছে। Greece আপত্তি জানায় ২১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে। Hellenic Republic-এর সেই নোট HCCH-এর স্ট্যাটাস টেবিলে হুবহু প্রকাশিত আছে।

এর আইনি ফল হলো, কনভেনশনটি বাংলাদেশ ও Greece-এর মধ্যে কখনো কার্যকরই হয়নি। বাংলাদেশি অ্যাপোস্টিল স্টিকারের Greek কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো মূল্য নেই। বদলে দরকার পুরনো ও ধীর কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশন—ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন, তারপর সংশ্লিষ্ট Greek মিশনের লিগ্যালাইজেশন।

অনিশ্চিত—কাজ করার আগে নিশ্চিত হোন। প্রকাশিত চেকলিস্ট যেহেতু নিজেই স্ববিরোধী, তাই ২০২৭ সালে নয়াদিল্লি দূতাবাস ঠিক কোন সিল গ্রহণ করবে সেটা কোনো সৎ গাইডই নিশ্চিত করে বলতে পারে না। আপনার ফাইলের জন্য লিখিতভাবে শর্তটি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পথেই টাকা খরচ করবেন না। এ ধরনের বিষয় কেস ধরে ধরে যাচাই করতে হয়।

বাংলাদেশ থেকে Greek পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন কীভাবে?

আলাদা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি লিখে নয়, Greek শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি জাতীয় কোটার মাধ্যমে। Greek পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অ-Greek বিদেশি নাগরিকদের ভর্তি করে একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে—μηχανογραφικό, অর্থাৎ অ-Greek বংশোদ্ভূত বিদেশিদের জন্য কম্পিউটারাইজড ফরম। আবেদন করতে কোনো ফি লাগে না।

Greek সরকারের নিজস্ব সেবা-নিবন্ধনে পুরো প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা আছে, আর তাতে এমন তিনটি বিষয় আছে যা বাংলাদেশি পরিবারগুলো আগে থেকে প্রায় কখনোই জানতে পারে না।

১
নির্দিষ্ট সময়ে অনলাইনে আবেদন। ফরমটি জমা হয় মন্ত্রণালয়ের exams-foreigner.it.minedu.gov.gr প্ল্যাটফর্মে, যা বছরে কেবল ঘোষিত কিছু তারিখেই খোলা থাকে। সময় পেরিয়ে গেলে আরও এক বছরের অপেক্ষা।
২
এরপর কাগজ কুরিয়ার করতে হবে Athens-এ। অনলাইনে জমা দেওয়ার পর ফরম ও ঘোষণাপত্র প্রিন্ট করে প্রতিটি পাতায় সই করে, সহায়ক কাগজপত্রসহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কুরিয়ারে পাঠাতে হয় Athens-এর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। শুধু ডিজিটাল ধাপটুকু আবেদন হিসেবে গণ্য হয় না।
৩
HSC-এর ফল ২০ পয়েন্ট স্কেলে রূপান্তর। Greece নম্বর দেয় ২০-এর মধ্যে। বাংলাদেশি HSC GPA ৫.০০ স্কেলে হওয়ায় আলাদা একটি গ্রেড কনভার্শন সার্টিফিকেট লাগে, যা দেয় Greek মন্ত্রণালয়ের Directorate for Diaspora Education কিংবা বিদেশে Greek মিশনের শিক্ষা সমন্বয়কারী। নিজে হিসাব করে এটি বানানো যায় না।
৪
অনুবাদ করতে হবে Greek ভাষায়। আপনার সার্টিফিকেট বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ দিয়ে সত্যায়িত করাতে হবে এবং সঙ্গে দিতে হবে সরকারি Greek অনুবাদ—English নয়, Greek।
৫
অপেক্ষা প্রায় দুই মাস। নিবন্ধনে আনুমানিক প্রক্রিয়াকাল দুই মাস, যার শেষে মন্ত্রীর সই করা একটি সিদ্ধান্তে নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ হয়। ভর্তির এই অনুমোদন এক বছর কার্যকর থাকে।

যোগ্যতার একটি শর্ত অনেককে অবাক করে: এই কোটা ব্যবহার করতে হলে আপনি বা আপনার বাবা-মা কেউই Greek বংশোদ্ভূত হতে পারবেন না, এবং মাধ্যমিকের শেষ অন্তত দুই বছর বিদেশে পূর্ণকালীনভাবে পড়া থাকতে হবে। বাংলাদেশে HSC শেষ করা শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সাধারণত দুটো শর্তই পূরণ হয়ে যায়।

Greece কি সত্যিই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সাধ্যের মধ্যে?

সৎ উত্তর—Greek ভাষায় পড়তে রাজি থাকলে হ্যাঁ, English লাগলে অতটা নয়।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে Greek ভাষায় পড়ানো ডিগ্রির খরচ সত্যিই কম; Greece-এর সুনামটাই সেখানে। তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে English-এ পড়ানো স্নাতক প্রোগ্রামের সংখ্যা খুবই সীমিত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় সংস্থা Study in Greece পোর্টাল তাদের নিজেদের তালিকায় মাত্র নয়টি আন্তর্জাতিক স্নাতক প্রোগ্রাম দেখায়, আর এর মধ্যে চারটিই মেডিসিন। বাকিগুলো প্রত্নতত্ত্ব, অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়ন, অ্যাকাউন্টিং ও ফাইন্যান্স, ফলিত দর্শন এবং সৃজনশীল লেখা।

পথভাষাবিকল্পখরচ
পাবলিক, Greek ভাষায়Greekঅনেকসবচেয়ে কম
পাবলিক, English স্নাতকEnglishখুব কমমাঝারি-বেশি
English-এ মেডিসিনEnglishকয়েকটিসবচেয়ে বেশি
English-এ স্নাতকোত্তরEnglishঅনেকমাঝারি

English-এ পড়ানো প্রোগ্রামের প্রকাশিত ফি বিভিন্ন সূত্রে বেশ আলাদা—নিচের দিকে বছরে প্রায় €১,৫০০ থেকে মেডিসিনের ক্ষেত্রে €১৫,০০০ পর্যন্ত—কোনো একটি অঙ্ক পুরো বাজারকে বোঝায় না। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য Greece আসলে প্রতিযোগিতামূলক স্নাতকোত্তর পর্যায়ে: সেখানে English প্রোগ্রামের সংখ্যা অনেক বেশি এবং ফিও তুলনামূলক সহনীয়।

টিউশনের অঙ্ক নির্দেশক মাত্র। ফি নির্ধারিত হয় প্রোগ্রাম ধরে ধরে এবং প্রতি বছর বদলায়। আর্থিক পরিকল্পনা করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজের ভর্তি-পাতা থেকে ২০২৭ সালের সঠিক অঙ্কটি মিলিয়ে নিন—আর মনে রাখুন, এর এক-তৃতীয়াংশ ভিসার সিদ্ধান্তের আগেই দিতে হতে পারে।

Greece-এ পার্ট-টাইম কাজ আর পড়া শেষে থাকার সুযোগ আছে কি?

দুটোই আছে, তবে শর্তসাপেক্ষে। Greece-এর Migration Code—Law 5038/2023, কার্যকর ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে—স্টাডি রেসিডেন্স পারমিটধারীদের আইনে নির্ধারিত শর্তে কেবল পার্ট-টাইম কাজের অনুমতি দেয়, আর সাম্প্রতিক সংশোধনীতে কিছু শিক্ষার্থী শ্রেণির জন্য সপ্তাহে বিশ ঘণ্টার সীমার কথা এসেছে।

বড় পরিবর্তনটা অন্য প্রান্তে। একই আইনের ১১৯ অনুচ্ছেদ প্রথমবারের মতো পড়া-পরবর্তী একটি পথ তৈরি করেছে। স্টাডি রেসিডেন্স পারমিটধারী স্নাতক এখন এক বছরের রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন, নিজের সম্পন্ন করা পড়াশোনার স্তরের সঙ্গে মানানসই চাকরি খুঁজতে বা ব্যবসা শুরু করতে। আবেদন করতে হয় স্টাডি পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ত্রিশ দিন আগে, আর তিন মাস পর কর্তৃপক্ষকে দেখাতে হয় যে চাকরি বা ব্যবসার বাস্তব সম্ভাবনা সত্যিই আছে।

একটা বাস্তব বিষয় অনেকে গুলিয়ে ফেলেন: আপনার national "D" ভিসা কেবল প্রবেশের কাগজ। Greek নিয়ম অনুযায়ী দেশে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করতে হয়। Athens-এ নামা মানে কাগজপত্রের শেষ নয়—দ্বিতীয় ভাগের শুরু।

২০২৭ intake-এর জন্য সময়সূচি কেমন হওয়া উচিত?

Greek শিক্ষাবর্ষ শুরু হয় হেমন্তে, আর মন্ত্রণালয়ের কোটা, লিগ্যালাইজেশনের ধাপ এবং নয়াদিল্লির কুরিয়ার-চক্র—তিনটাতেই সত্যিকারের সময় লাগে। তাই পেছন থেকে হিসাব করাই একমাত্র সুস্থ পরিকল্পনা।

  • মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ফাইন্ডারে প্রোগ্রাম বেছে নিন, পড়ানোর ভাষা ও ফি মিলিয়ে দেখুন।
  • ডকুমেন্ট লিগ্যালাইজেশন আগেভাগে শুরু করুন—কনস্যুলার পথ অ্যাপোস্টিলের চেয়ে ধীর, আর Greece অ্যাপোস্টিল নেবে না।
  • HSC-এর গ্রেড কনভার্শন সার্টিফিকেট আর সরকারি Greek অনুবাদ করিয়ে নিন।
  • মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত আবেদনের সময়সীমার দিকে নজর রাখুন এবং অনলাইন ফরম জমা দিন।
  • সই করা প্রিন্ট আর কাগজপত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে Athens-এ কুরিয়ার করুন।
  • ভর্তি হলে বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়ে Greek কনস্যুলার সেকশনে সরাসরি যোগাযোগ করান—চেকলিস্টে স্পষ্টভাবেই এটি চাওয়া আছে।
  • টিউশনের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ পরিশোধ করে রসিদ সংরক্ষণ করুন।
  • পাসপোর্টের মেয়াদ আঠারো মাসের কম থাকলে নতুন করে নিন—নইলে D ভিসার ফাইলই জমা নেওয়া হবে না।
  • তিন মাসের বেশি পুরনো নয় এমন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নিন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সত্যায়িত।
  • প্রথম বছরের জন্য ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স করান।
  • ঢাকায় GVCW অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন এবং কুরিয়ার ফি নগদে সঙ্গে রাখুন।
  • ইন্টারভিউয়ের পরের মেডিকেল পরীক্ষা আর পাসপোর্টের দিল্লি যাওয়া-আসার সময়টুকু হিসাবে রাখুন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে Estonia স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭—আরেকটি দেশ যারা বাংলাদেশি অ্যাপোস্টিলে আপত্তি জানিয়েছে—এবং বাংলাদেশ থেকে Bulgaria স্টুডেন্ট ভিসা ২০২৭, Greece-এর উত্তরের প্রতিবেশী, যেখানে নিয়ম চলে ঠিক উল্টো পথে।

এই লেখায় ব্যবহৃত অফিশিয়াল সূত্র: বাংলাদেশের জন্য Greek ভিসা সেন্টার (GVCW) এবং Greek সরকারি সেবা-নিবন্ধন, সর্বশেষ হালনাগাদ ৩১ জুলাই ২০২৬।

একটি কথা: এই গাইডটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্লগ গবেষণা, Eduvisa এখন Greece-এর আবেদন প্রসেস করে এমন ঘোষণা নয়। আমাদের বর্তমান সেবার দেশগুলো Malta, Italy, UK, Malaysia ও Cyprus।

Greece আপনার প্রোফাইলের সঙ্গে মানাবে কি না, নিশ্চিত নন?

প্রতিটি ফাইলই আলাদা—আপনার HSC-এর ফল, হাতে থাকা ফান্ড, প্রোগ্রামের ভাষা, আপনার সময়সীমা। একবার এসে আমাদের সঙ্গে বসুন। কাগজগুলো সততার সঙ্গে দেখে আমরা যা মনে করি তা-ই বলব—এমনকি উত্তরটা যদি হয় অন্য কোনো দেশ আপনার জন্য বেশি মানানসই, তবে সেটাও।

ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন →

আপনার নিজের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন আছে?

একটি ব্লগ পোস্টে যতটুকু বলা যায়, তার বেশি কিছু না। আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলুন।

ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন