মূল অংশে যান
← ব্লগে ফিরে যান

বাংলাদেশিদের জন্য জাপান ট্যুরিস্ট ভিসা ২০২৭: ফ্রি ভিসা, কাগজ ও খরচ

বাংলাদেশি পাসপোর্টে জাপান ট্যুরিস্ট ভিসা ২০২৭: ভিসা ফি নেই, VFS চার্জ ৳২,০৯০, কাগজের পূর্ণ তালিকা, ব্যাংক ও ট্যাক্সের টিপস আর ৭ দিনের খরচ।

প্রকাশিত 14 Oct, 2026 japan

Read in English →
বাংলাদেশিদের জন্য জাপান ট্যুরিস্ট ভিসা ২০২৭: ফ্রি ভিসা, কাগজ ও খরচ

কিয়োটোর চেরি ফুল, লেকের ধারের ক্যাফে থেকে মাউন্ট ফুজি, টোকিওর নিয়ন আলো — অনেক বাংলাদেশির স্বপ্নের তালিকার শীর্ষে জাপান। আর অনেকেই জানেন না: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য জাপানের ভিসা ফ্রি। শুধু VFS-এর সার্ভিস চার্জ দিতে হয়। আপনার আবেদনের ভাগ্য ঠিক করে আয়, ট্যাক্সের ইতিহাস আর পরিষ্কার পরিকল্পনা দেখানো গোছানো একটা ফাইল।

৳০বাংলাদেশিদের ভিসা ফি
৳২,০৯০VFS সার্ভিস চার্জ
৬ মাসপ্রত্যাখ্যানের পর অপেক্ষা
পেছনে মাউন্ট ফুজিসহ চুরেইতো প্যাগোডা, বাংলাদেশ থেকে জাপান ট্যুরিস্ট ভিসায় ভ্রমণের চেনা দৃশ্য
চুরেইতো প্যাগোডা ও মাউন্ট ফুজি — টোকিও থেকে ট্রেন ও বাসে প্রায় দুই ঘণ্টা। ছবি: Stjepko Krehula, Wikimedia Commons, CC BY 4.0 (cropped).

২০২৭ সালে বাংলাদেশিদের জন্য জাপান ভিসা কি ফ্রি?

হ্যাঁ। ঢাকার জাপান দূতাবাস স্পষ্ট বলেছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের কোনো ভিসা ফি লাগে না। আবেদন গ্রহণকারী VFS Global একটা সার্ভিস ফি নেয়, যা ফি-মুক্ত আবেদনকারীদেরও দিতে হয় — নগদ টাকায়।

বিষয়অফিসিয়াল নিয়ম
ভিসা ফি (বাংলাদেশি)ফ্রি
VFS সার্ভিস চার্জ৳২,০৯০, নগদ
ছবি২ × ১.৪ ইঞ্চি, সাম্প্রতিক
ফ্লাইটরিটার্ন বুকিং স্লিপ (টিকিট নয়)
ব্যাংক স্টেটমেন্টসর্বশেষ ৬ মাস
ট্যাক্সের কাগজট্যাক্স-আয়ের সার্টিফিকেট ও রসিদ, সর্বশেষ ৩ বছর
প্রত্যাখ্যানের পরআবার আবেদনে ৬ মাস অপেক্ষা

প্রসেসিংয়ের নির্দিষ্ট সময় প্রকাশিত নেই; ট্রাভেল সাইটের তথ্যে প্রায় পাঁচ থেকে সাত কর্মদিবস (ট্রাভেল সাইটের তথ্য)। চেরি ফুলের মৌসুম (মার্চের শেষ–এপ্রিলের শুরু) আর শরতের রঙের (নভেম্বর) চার-ছয় সপ্তাহ আগে আবেদন করুন।

দর্শনীয় ভ্রমণের জন্য জাপান কী কী কাগজ চায়?

দূতাবাসের তালিকা ছোট, তবে কড়া। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের সবচেয়ে বেশি ঘাটতি থাকে ট্যাক্সের কাগজে।

  • আবেদন ফর্ম, বৈধ পাসপোর্ট ও ফটোকপি, পুরোনো পাসপোর্ট ও কপি
  • একটি ছবি (২ × ১.৪ ইঞ্চি)
  • রিটার্ন এয়ারলাইন বুকিং স্লিপ
  • প্রতি রাতের হোটেল বুকিং
  • জাপানে দিনভিত্তিক সূচি
  • চাকরির সার্টিফিকেট, ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স
  • ট্যাক্স-আয়ের সার্টিফিকেট ও ট্যাক্স দেওয়ার রসিদ (সর্বশেষ ৩ বছর)
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সর্বশেষ ছয় মাস

ঘন ঘন যাঁরা যান, তাঁরা কারণ ব্যাখ্যার চিঠি ও প্রমাণ দিয়ে এক বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা চাইতে পারেন। দূতাবাস শুধু বাংলাদেশি নাগরিক বা বাংলাদেশে বসবাসকারীদের আবেদন নেয়।

ঢাকায় জাপান ভিসার আবেদন ধাপে ধাপে কীভাবে করবেন?

1

ভ্রমণসূচি বানান

তারিখ ঠিক করে রিফান্ডযোগ্য হোটেল আর রিটার্ন ফ্লাইট রিজার্ভেশন নিন।

2

ট্যাক্স ও ব্যাংকের কাগজ জোগাড়

তিন বছরের ট্যাক্স সার্টিফিকেট আর ছয় মাসের স্টেটমেন্টেই সবচেয়ে বেশি সময় লাগে; আগে শুরু করুন।

3

ফর্ম পূরণ

দূতাবাসের ভিসা আবেদন ফর্ম ব্যবহার করুন; নাম পাসপোর্টের সাথে মেলান।

4

VFS জাপানে জমা

৳২,০৯০ সার্ভিস চার্জ নগদে দিন।

5

পাসপোর্ট সংগ্রহ

নন-রিফান্ডেবল টিকিট কেনার আগে ভিসার মেয়াদ ও থাকার দিন মিলিয়ে নিন।

ঢাকা থেকে জাপান ভ্রমণে কত খরচ?

সরাসরি উত্তর: ৭ দিনের টোকিও–কিয়োটো ভ্রমণে জনপ্রতি মোটামুটি ৳২,২০,০০০–৩,৮০,০০০ লাগে। ফ্লাইট সাধারণত ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, হংকং বা উপসাগরীয় দেশ হয়ে যায় (ট্রাভেল সাইটের তথ্য)।

খাত৳ (আনুমানিক)
ভিসা (ফ্রি) + VFS চার্জ২,০৯০
ঢাকা–টোকিও রিটার্ন ফ্লাইট (১ স্টপ)৮৫,০০০–১,৪০,০০০
হোটেল, ৬ রাত (বিজনেস/হোস্টেল)৬০,০০০–১,২০,০০০
খাবার, ৭ দিন২৫,০০০–৪৫,০০০
ট্রেন (টোকিও–কিয়োটোসহ), মেট্রো৩০,০০০–৫৫,০০০
প্রবেশ ফি, সিম, অন্যান্য১০,০০০–২০,০০০
মোট≈ ২,১২,০০০–৩,৮২,০০০

শুধু আনুমানিক হিসাব, জনপ্রতি, অক্টোবর ২০২৬-এ প্রতি ইয়েন প্রায় ৳০.৮২ ধরে। কোটেশন নয়।

জাপান ভিসার ফাইলে কী কী থাকবে?

  • পাসপোর্ট, কপি ও সব পুরোনো পাসপোর্ট
  • ২ × ১.৪ ইঞ্চি ছবিসহ পূরণ করা ফর্ম
  • রিটার্ন বুকিং স্লিপ
  • হোটেল বুকিং ও দিনভিত্তিক সূচি
  • চাকরির সার্টিফিকেট বা ট্রেড লাইসেন্স
  • সর্বশেষ ৩ বছরের ট্যাক্স সার্টিফিকেট ও রসিদ
  • সর্বশেষ ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট

প্রথমবার জাপানে কোথায় যাবেন?

প্রথম সফরের চেনা রুট টোকিও আর কিয়োটো, সাথে একদিন ফুজি।

  • টোকিও: আসাকুসা, শিবুয়া ক্রসিং, মেইজি শ্রাইন; নামাজের জন্য টোকিও কামি মসজিদ।
  • মাউন্ট ফুজি এলাকা: কাওয়াগুচিকো লেক আর চুরেইতো প্যাগোডা।
  • কিয়োটো: ফুশিমি ইনারির লাল তোরণ, কিয়োমিজু-দেরা, আরাশিয়ামার বাঁশবন।
  • ওসাকা ও নারা: দোতোনবোরির স্ট্রিট ফুড আর নারার হরিণ পার্ক।
  • হালাল খাবার: টোকিও ও ওসাকায় বাড়ছে; অ্যাপে সার্টিফায়েড রেস্তোরাঁর তালিকা পাওয়া যায় (ট্রাভেল সাইটের তথ্য)।
মনে রাখুন: প্রত্যাখ্যাত হলে একই উদ্দেশ্যে ছয় মাস দূতাবাস নতুন আবেদন নেয় না। তাই প্রথমবারেই ফাইলটা ঠিকঠাক করা লাভজনক।

বাংলাদেশ থেকে টাকা-ডলার কীভাবে নেবেন?

সংক্ষেপে: যাওয়ার আগে পাসপোর্টে ডলার এনডোর্স করুন, পরিষ্কার US$ নোট ও একটি ইন্টারন্যাশনাল কার্ড সাথে রাখুন, আর যতটুকু দরকার ততটুকুই ভাঙান।

  • ডলার এনডোর্সমেন্ট: ব্যাংক বা লাইসেন্সধারী মানি চেঞ্জার থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কিনে পাসপোর্টে এনডোর্স করিয়ে নিন — এটা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত বার্ষিক ট্রাভেল কোটার মধ্যে পড়ে। এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট পাসপোর্টের সাথে রাখুন।
  • ইন্টারন্যাশনাল কার্ড: বাংলাদেশি ব্যাংকের ডুয়াল-কারেন্সি ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে হোটেল পেমেন্ট ও ইয়েন তোলা সবচেয়ে নিরাপদ। ব্যাংককে আন্তর্জাতিক ব্যবহার চালু করতে বলুন এবং প্রতি লেনদেন ও দৈনিক সীমা জেনে নিন।
  • পরিষ্কার নোট: নতুন, ছেঁড়া-ফাটা নয় এমন US$ নোট (সম্ভব হলে ২০১৩ বা পরের সিরিজ) ভালো রেট পায়; পুরোনো বা দাগওয়ালা নোট প্রায়ই নেওয়া হয় না।
  • বুঝে ভাঙান: এয়ারপোর্টে শুধু যাতায়াতের জন্য অল্প ভাঙান, বাকিটা শহরের মানি চেঞ্জার বা এটিএম থেকে। বিদেশে টাকা (৳) ভাঙানোর চেষ্টা করবেন না — বাংলাদেশের বাইরে প্রায় কোথাও নেয় না।
  • রেকর্ড রাখুন: কার্ড স্লিপ ও এনডোর্সমেন্ট রসিদ পরে যুক্তরাজ্য, শেনজেন বা স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনে আপনার ভ্রমণ ইতিহাস পরিষ্কার দেখায়।

নিজে করার বদলে ওয়ান-টু-ওয়ান সাহায্য কেন নেবেন?

কারণ টাকা খরচ করার আগেই নিয়ম জানা একজন মানুষ আপনার পুরো পরিকল্পনা মিলিয়ে দেখেন। বেশিরভাগ ভ্রমণ ছোট কারণে ভেস্তে যায়: পাসপোর্টের মেয়াদ কম, বুকিংয়ের সাথে ভিসা ফর্মের তথ্য না মেলা, অনানুষ্ঠানিক সাইটে ফি দেওয়া, কিংবা ফেরার তারিখ পরীক্ষা বা অফিসের সাথে সংঘাত। নিজে করা সম্ভব — এই পাতার অফিসিয়াল লিংকগুলোই যথেষ্ট — কিন্তু অভিজ্ঞ কেউ পাশে থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটা পরিষ্কার, দ্রুত আর ভুলের ঝুঁকি অনেক কম হয়।

Eduvisa-র ওয়ান-টু-ওয়ান সার্ভিসে কী থাকে?

  • একজন নির্দিষ্ট পরামর্শক, যিনি প্রথম কথা থেকে দেশে ফেরা পর্যন্ত আপনার ফাইল দেখেন — একই কথা বারবার বলতে হয় না।
  • আপনার কেসের জন্য আলাদা ডকুমেন্ট চেকলিস্ট — পাসপোর্ট, ছবি, ব্যাংকের কাগজ, বুকিং, চিঠি — জমা দেওয়ার আগে যাচাই করা।
  • বাজেট ও ভ্রমণসূচি পরিকল্পনা, ঢাকা থেকে বাস্তবসম্মত খরচসহ, ছুটি ও ভাড়া বাড়ার সময় মাথায় রেখে।
  • শুধু অফিসিয়াল পোর্টালে আবেদন সহায়তা, প্রতিটি ফি ও রসিদের রেকর্ডসহ।
  • ভ্রমণ ইতিহাসের পরিকল্পনা, যাতে এই সফর ভবিষ্যতের যুক্তরাজ্য, শেনজেন বা স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনকে শক্ত করে।

Eduvisa মেম্বারশিপ কার্ড কী?

প্রত্যেক স্টুডেন্ট বা ট্যুরিস্ট ক্লায়েন্ট একটি ব্যক্তিগত ক্লায়েন্ট আইডিসহ Eduvisa মেম্বারশিপ কার্ড পান। কার্ডের ওয়েবসাইট লাইনে লেখা থাকে getbesthost.com/eduvisa: সেখানে ক্লায়েন্ট আইডি দিয়ে ঢুকে আপনার প্রসেসিং স্ট্যাটাস ট্র্যাক করতে পারবেন, সব ডকুমেন্ট এক জায়গায় দেখতে পারবেন এবং যত পেমেন্ট করেছেন তার সবই দেখতে পারবেন।

কাজের অগ্রগতি ও পেমেন্ট কীভাবে যাচাই করবেন?

আমাদের ভেরিফায়েড ক্লায়েন্ট পোর্টাল getbesthost.com/eduvisa-এ ধাপে ধাপে দেখা যায় আপনার কাজ কতদূর এগিয়েছে, আর প্রতিটি পেমেন্ট গ্রহণ ও রেকর্ড হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা যায়। ফোন করে জিজ্ঞেস না করেই আপনি জানবেন ফাইল কোথায় আছে — পরিবারকেও দেখাতে পারবেন কী কী পেমেন্ট হয়েছে এবং কেন।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

বাংলাদেশিদের জন্য জাপান ভিসা কি ফ্রি?

হ্যাঁ। বাংলাদেশে জাপান দূতাবাস বলছে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা ফি লাগে না; VFS প্রতি আবেদনে ৳২,০৯০ নেয়।

জাপান ট্যুরিস্ট ভিসা হতে কত দিন লাগে?

ট্রাভেল সাইটের তথ্যে প্রায় পাঁচ থেকে সাত কর্মদিবস; ব্যস্ত মৌসুমের চার-ছয় সপ্তাহ আগে আবেদন করুন।

ট্যাক্স রিটার্ন কি লাগে?

হ্যাঁ, দর্শনীয় ভ্রমণের তালিকায় সর্বশেষ তিন বছরের ট্যাক্স-আয়ের সার্টিফিকেট ও রসিদ চাওয়া হয়।

প্রত্যাখ্যানের পর কি আবার আবেদন করা যায়?

দূতাবাসের নিয়মে একই উদ্দেশ্যে ছয় মাস পর।

মাল্টিপল এন্ট্রির সুযোগ আছে?

হ্যাঁ, ঘন ঘন যাওয়া ভ্রমণকারীদের জন্য কারণের চিঠি ও প্রমাণসহ এক বছরের মাল্টিপল ভিসা।

আরও পড়ুন: জাপান স্টুডেন্ট ভিসা · MEXT স্কলারশিপ · সিঙ্গাপুর ভিসা

জাপানের স্বপ্ন দেখছেন? ফাইল যেন সম্পূর্ণ থাকে, সেটা আমরা দেখব।

দূতাবাসের তালিকার সাথে আপনার ট্যাক্স ও ব্যাংকের কাগজ মিলিয়ে দেখব, যাতে একটা পাতার অভাবে ছয় মাস নষ্ট না হয়।

ফ্রি পরামর্শ বুক করুন →

আপনার নিজের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন আছে?

একটি ব্লগ পোস্টে যতটুকু বলা যায়, তার বেশি কিছু না। আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের সাথে কথা বলুন।

ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন