কয়েক সপ্তাহ পরপরই আমাদের অফিসে কেউ না কেউ Romania নিয়ে একটা প্রিন্টআউট হাতে ঢোকেন, আর প্রায় একই কথা বলেন — "Romania তো এখন Schengen-এ, তাই ভিসা পেলেই সারা ইউরোপ ঘুরতে পারব।" কথাটা বিশ্বাস করা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু Romania-র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব পোর্টাল বলছে অন্য কথা — আর এই ভুল ধারণাটাই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুলগুলোর একটা।
২০২৭ সালের কোনো intake-এর জন্য যদি আপনি বাংলাদেশ থেকে Romania student visa নিয়ে খোঁজখবর করছেন, তাহলে এই লেখায় পাবেন Romania সরকার আসলে কী প্রকাশ করেছে — আপনার ফাইল কোথায় যায়, Letter of Acceptance কেন গোটা টাইমলাইন নিয়ন্ত্রণ করে, কত টাকা দেখাতে হয়, আর Schengen সদস্যপদ আসলে আপনাকে কী দেয়।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের লাগে Romania-র long-stay study visa, যার চিহ্ন D/SD। আগে দরকার Romania-র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া Letter of Acceptance, যাতে সময় লাগে ৩০ থেকে ৬০ দিন। ভিসার ফাইল জমা হয় evisa.mae.ro দিয়ে, আর বাংলাদেশের ফাইল দেখে New Delhi-র Romanian দূতাবাস। সিদ্ধান্তের আইনি মেয়াদ ৬০ দিন, ফি ১২০ ইউরো।
Romania student visa আসলে কী, আর কার লাগে?
এর পুরো নাম long-stay visa for studies, আর চিহ্ন D/SD। Romania-য় আপনার পড়াশোনা যদি টানা ৯০ দিনের বেশি হয় — অর্থাৎ কার্যত সব স্নাতক, স্নাতকোত্তর আর PhD প্রোগ্রামেই — তখন এই ভিসা লাগবে।
Romania-র সরকারি ভিসা নির্দেশিকা, যেটি প্রকাশ করে UEFISCDI (উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় অর্থায়নকারী সরকারি সংস্থা), পরিষ্কার বলছে — তৃতীয় দেশের সব নাগরিকেরই D/SD ভিসা লাগে, ব্যতিক্রম কেবল তিনটি দেশ: Canada, United States of America আর Japan। বাংলাদেশ সেই তালিকায় নেই, তাই বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীকে সবার মতোই আবেদন করতে হয়।
একই নির্দেশিকায় পাসপোর্ট নিয়ে শর্তগুলোও আছে। যে ভিসার জন্য আবেদন করছেন, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও পাসপোর্ট অন্তত তিন মাস বৈধ থাকতে হবে; পাসপোর্ট ইস্যু হতে হবে গত দশ বছরের মধ্যে; আর ভিসা স্টিকারের জন্য অন্তত দুটি খালি পাতা থাকতে হবে। সঙ্গে লাগবে সাম্প্রতিক দুটি রঙিন ছবি, মাপ ৩ × ৪ সেন্টিমিটার। খেয়াল রাখুন, এটা ইউরোপের অনেক মিশনের চাওয়া ৩.৫ × ৪.৫ সেন্টিমিটার নয় — তাই অন্য দেশের ফাইলের জন্য তোলা ছবি এখানে কাজে না-ও লাগতে পারে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ফাইলটা আসলে জমা দেন কোথায়?
এই বিষয়টা আগে পরিষ্কার হওয়া দরকার, কারণ এর ওপরেই আপনার খরচ আর ক্যালেন্ডার দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশে Romania-র ভিসা দেওয়ার মতো কোনো দূতাবাস এখন নেই। ঢাকায় Romania-র একটি Honorary Consulate আছে বটে, তবে honorary consulate সাধারণত ভিসার সিদ্ধান্ত নেয় না।
২০২৩ সালের এপ্রিলে Romania কর্তৃপক্ষ জানায়, ঢাকার অস্থায়ী Romanian অফিসটি New Delhi-র Romanian দূতাবাসে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকেই বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদন দেখা হবে। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের এই New Delhi মিশনের student-visa নির্দেশনাই অনুসরণ করতে বলা হয়।
আবেদনটা জমা পড়ে অনলাইনে। Romania-র নির্দেশিকা এ বিষয়ে অস্বাভাবিক রকম স্পষ্ট: আবেদন করতে হবে evisa.mae.ro পোর্টাল দিয়ে, এবং সেখানে বারবার বলা আছে যে ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার আর কোনো পথ নেই। এরপর সেই ইলেকট্রনিক ফাইল সশরীরে জমা দিতে হয় সেই মিশনে, যার এখতিয়ারে আপনি বৈধভাবে অবস্থান করছেন।
২০২৩ সালে বাংলাদেশি ভিসা প্রক্রিয়া New Delhi-তে সরানোর সময় Romania-র বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, প্রত্যেক আবেদনকারীর জন্য ইন্টারভিউ বাধ্যতামূলক, সেটি হবে রেকর্ড করা ভিডিও কলে, আর কারিগরি বা ভাষাগত — যে কারণেই হোক — ইন্টারভিউ না হলে ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। ঘোষণাটি ২০২৩ সালের এবং এর ভাষা মূলত work visa ফাইল ঘিরে ছিল, তাই একে বর্তমান প্রকাশিত student নিয়ম না ধরে একটি জোরালো ইঙ্গিত হিসেবে দেখুন। তবু ধরে নিন ইন্টারভিউ হবেই — আর নিজের কোর্স, অর্থায়ন ও পরিকল্পনা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলার প্রস্তুতি নিন।
Letter of Acceptance কী, আর কেন এটাই আপনার টাইমলাইন ঠিক করে?
বেশিরভাগ দেশে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি নিলেই কাজ শেষ। Romania এর ওপর একটা সরকারি স্তর যোগ করে, আর Romanian আবেদন দেরি হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণও এটাই।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের Study in Romania পোর্টাল অনুযায়ী নন-ইইউ শিক্ষার্থীদের ধাপগুলো এমন। আপনি পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন এবং সাধারণত ১৫ দিনের মধ্যে একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত পান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় আপনার ভর্তির ফাইল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। মন্ত্রণালয়ের নিজের প্রক্রিয়ায় সময় লাগে সর্বনিম্ন ৩০ দিন, সর্বোচ্চ ৬০ দিন। সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলে মন্ত্রণালয় Letter of Acceptance ইস্যু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে, আর প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দূতাবাসেও পাঠায়।
ওই পাতাতেই এমন একটা তথ্য আছে, যা বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে অবাক করে: আপনি যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছেন সেটি যদি আপনার আবেদন রাখতে না পারে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় আপনার প্রোফাইল, পছন্দ ও তখনকার আসন-পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাব দিতে পারে। অর্থাৎ আপনি সরাসরি বাতিল না-ও হতে পারেন — আপনাকে অন্যদিকে পাঠানো হতে পারে।
ধাপগুলো সৎভাবে যোগ করলে হিসাবটা স্পষ্ট হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তে প্রায় ১৫ দিন, তারপর মন্ত্রণালয়ে ৬০ দিন পর্যন্ত, তারপর ভিসা ফাইলের নিজেরই ৬০ দিনের আইনি মেয়াদ। এ কারণেই শরৎকালীন intake-এর জন্য জুন মাসে শুরু করা শিক্ষার্থী আসলে আগেই পিছিয়ে আছেন।

D/SD ভিসার ফাইলে কী কী কাগজ লাগে?
আবেদন ফরম, পাসপোর্ট, ছবি আর ফি ছাড়াও Romania-র প্রকাশিত ভিসা নির্দেশিকায় studies ফাইলের জন্য যা যা চাওয়া হয়েছে।
- Romania-র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ইস্যু করা proof of acceptance for studies, যাতে লেখা থাকবে আপনি স্বীকৃত বা সাময়িকভাবে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন কোর্স করবেন
- অন্তত এক শিক্ষাবর্ষের টিউশন ফি পরিশোধের প্রমাণ
- ভিসায় উল্লিখিত পুরো সময়ের জন্য, ন্যূনতম নিশ্চিত মাসিক গ্রস বেতনের সমান অর্থের প্রমাণ
- Criminal record certificate, কিংবা সমমানের আইনি মূল্যের কোনো কাগজ
- পুরো অবস্থানকাল জুড়ে বৈধ travel medical insurance, কভারেজ অন্তত ৩০,০০০ ইউরো
- থাকার ব্যবস্থার প্রমাণ
- যে ভাষায় প্রোগ্রামটি পড়ানো হয়, সেই ভাষা জানার প্রমাণ (ব্যতিক্রম কেবল Romanian ভাষার preparatory year)
- বয়স ১৮-র কম হলে বাবা-মা বা আইনি অভিভাবকের সম্মতিপত্র
অ্যাপয়েন্টমেন্টে যাওয়ার সময় প্রতিটি কাগজ মূল কপি এবং ফটোকপি — দুটোই জমা দিতে হয়। প্রয়োজন মনে করলে কনস্যুলার কর্মকর্তা বাড়তি কাগজও চাইতে পারেন।
New Delhi মিশনের নিজস্ব নির্দেশনায় বাড়তি কী আছে?
যে মিশন বাংলাদেশি ফাইল দেখে, তারা এমন কিছু ব্যবহারিক নিয়ম প্রকাশ করে যা সাধারণ study-abroad ওয়েবসাইটে পাবেন না। আর ঠিক এই ধরনের খুঁটিনাটিই একটা ভালো আবেদনকে ডুবিয়ে দেয়।
ব্যাংক স্টেটমেন্ট ব্যাংককেই ইমেইল করতে হবে। আবেদনকারীকে বলা হয়, নিজের ব্যাংককে অনুরোধ করুন যেন স্বাক্ষর ও সিলসহ স্টেটমেন্টের স্ক্যান সরাসরি কনস্যুলার ইমেইল ঠিকানায় পাঠায় — এবং সেটি যেতে হবে ব্যাংকের নিজস্ব ইমেইল ডোমেইন থেকে, কোনো Gmail বা Yahoo ঠিকানা থেকে নয়। সাবজেক্টে থাকতে হবে SE আবেদন নম্বর। আপনি নিজে স্ক্যান করে আপলোড করলে সেটি একই জিনিস নয়।
Booking.com থাকার প্রমাণ নয়। গ্রহণযোগ্য কাগজ দুটি — বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া accommodation নিশ্চিত করার ঘোষণাপত্র, অথবা Romania-র কর কর্তৃপক্ষ ANAF-এ নিবন্ধিত ভাড়ার চুক্তি। হোটেল বা হোস্টেলের বুকিং এই শর্ত পূরণ করে না।
Duolingo বা কোচিং সেন্টারের সার্টিফিকেট চলবে না। অনলাইন সেলফ-অ্যাসেসমেন্ট টেস্ট সরাসরি বাতিল। Medium of Instruction চিঠি তখনই বৈধ ধরা হয় যখন আগের পুরো পড়াশোনাই সত্যিকারভাবে ইংরেজিতে হয়েছে — আর মিশনটি তার এখতিয়ারভুক্ত কোনো কোনো দেশের ক্ষেত্রে আরও কড়া অবস্থান নিয়েছে।
কাজে লাগানোর আগে যাচাই করুন। ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে New Delhi মিশনের student-visa পাতাটি আমাদের টুলে খোলেনি — mae.ro সাইট ফাঁকা পাতা ফেরত দিয়েছে। তাই ওপরের তিনটি নিয়ম সরাসরি লাইভ পাতা থেকে নয়, সার্চ ইঞ্জিনে সংরক্ষিত সেই পাতার রেকর্ড থেকে নেওয়া। একাধিক জায়গায় তথ্যগুলো মিলে গেছে, তবু কনস্যুলার চেকলিস্ট আগাম নোটিশ ছাড়াই বদলায়। ফাইল গোছানোর আগে মিশনের নিজস্ব সাইটে বর্তমান ভাষ্য দেখে নিন, আর Medium of Instruction-এর কড়াকড়ি বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কি না তা নিশ্চিত করুন।
কত টাকা দেখাতে হবে, আর কোন ব্যাংকে?
Romania শর্তটা একটা নির্দিষ্ট সংখ্যা হিসেবে নয়, বরং একটা সূত্র হিসেবে লেখে — এ কারণেই অনলাইনে নানা রকম অঙ্ক চোখে পড়ে। ভিসা নির্দেশিকায় চাওয়া হয়েছে "ভিসায় উল্লিখিত পুরো সময়ের জন্য, ন্যূনতম নিশ্চিত মাসিক গ্রস বেতনের সমান" অর্থের প্রমাণ।
অর্থাৎ ন্যূনতম মজুরিটা জানা দরকার। Romania-র গ্রস ন্যূনতম মজুরি ছিল ৪,০৫০ RON, আর সরকারি সিদ্ধান্ত নম্বর ১৪৬/২০২৬ অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুলাই থেকে তা বেড়ে হয়েছে মাসে ৪,৩২৫ RON — যা ৮৫০ ইউরোর সামান্য কম। এর পাশাপাশি Study in Romania পোর্টালের ভর্তি-ধাপে অন্তত ২,০০০ ইউরোর আর্থিক সামর্থ্যের কথা বলা আছে, যা প্রাথমিক ভিসা মেয়াদের কয়েক মাসের হিসাবের সঙ্গে মোটামুটি মেলে।
নবায়নের আগে আরেকটা সূক্ষ্ম পার্থক্য জেনে রাখা ভালো: ভিসার ধাপে মানদণ্ড ন্যূনতম গ্রস বেতন, কিন্তু রেসিডেন্স পারমিট বাড়ানোর পাতায় মানদণ্ড ধরা হয়েছে পারমিটের পুরো মেয়াদের জন্য মাসিক ন্যূনতম নিট বেতন। ধাপ আলাদা, সংখ্যাও আলাদা।
| খাত | পরিমাণ | আনুমানিক টাকা | অবস্থা |
|---|---|---|---|
| লং-স্টে ভিসা ফি | ১২০ ইউরো | ৳১৭,১০০ | সরকারি |
| মেডিকেল ইনস্যুরেন্স কভার | ৩০,০০০ ইউরো | ৳৪২.৮ লাখ | সরকারি |
| ন্যূনতম গ্রস মজুরির মানদণ্ড | ৪,৩২৫ RON/মাস | ৳১,১৭,৫০০/মাস | সরকারি |
| ভর্তির সময় আর্থিক সামর্থ্য | ২,০০০ ইউরো | ৳২.৮৫ লাখ | পোর্টালের অঙ্ক |
| ২৬ বছরের বেশি হলে স্বাস্থ্যবিমা | ৪৯ লেই/মাস | ৳১,৩৩০/মাস | সরকারি |
| টিউশন, বেশিরভাগ প্রোগ্রাম | ২,০০০–৫,০০০ ইউরো/বছর | ৳২.৯–৭.১ লাখ | আনুমানিক |
| টিউশন, ইংরেজিতে মেডিসিন | ৫,০০০–১০,০০০ ইউরো/বছর | ৳৭.১–১৪.৩ লাখ | আনুমানিক |
রূপান্তরে ধরা হয়েছে ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখের হার — ১ ইউরো = ৳১৪২.৭২ আর ১ RON = ৳২৭.১৭। হার প্রতিদিন বদলায়, তাই টাকার কলামটি কেবল ধারণা দেওয়ার জন্য। টিউশনের সারিগুলো একক কোনো সরকারি তালিকা থেকে নয়, বিভিন্ন সেকেন্ডারি সূত্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি পাতা থেকে নেওয়া — আপনার ফাইলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একমাত্র অঙ্কটি হলো আপনার নিজের বিশ্ববিদ্যালয় যে ইনভয়েস দেবে।
Study in Romania পোর্টাল বলছে, আপনার বয়স ২৬-র কম হলে স্বাস্থ্যবিমার খরচ বিশ্ববিদ্যালয়ই বহন করে এবং Romanian পাবলিক ইনস্যুরেন্স ব্যবস্থার পূর্ণ সুবিধা পাওয়া যায়। ২৬ পেরোলে মাসে ৪৯ লেই দিতে হয়। দুই ক্ষেত্রেই একজন ফ্যামিলি ডাক্তারের কাছে নিবন্ধন করতে হবে, যিনি সাধারণ পরামর্শ দেন আর প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠান। বিশের কোঠায় থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য এটি এমন একটা খরচ কমিয়ে দেয়, যা Malta, Italy বা UK — তিন জায়গাতেই গুনতে হয়।
Romania-র ভিসা দিয়ে কি Schengen ঘোরা যায়?
যায় না — আর এই ভুল ধারণাটার পেছনে একটা অনুচ্ছেদ খরচ করা দরকার, কারণ এর ওপর ভিত্তি করে মানুষ সত্যিকারের সিদ্ধান্ত নেন, সত্যিকারের টাকা খরচ করেন।
Romania ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে Schengen-এর পূর্ণ সদস্য হয়েছে, আর অন্য Schengen দেশগুলোর সঙ্গে স্থলসীমান্তের চেকিং উঠে গেছে — এটা সত্যি। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের রেসিডেন্স পারমিট পাতায় শিক্ষার্থীদের জন্য অবস্থানটা এমন ভাষায় লেখা, যেখানে ব্যাখ্যার কোনো জায়গা নেই: Romania-র long-stay ভিসা আপনাকে কেবল Romania-য় ঢোকার অনুমতি দেয়, অন্য কোনো Schengen বা EU দেশে ভ্রমণ কিংবা বসবাসের অধিকার দেয় না। Romania-য় পৌঁছে আপনাকে General Inspectorate for Immigration থেকে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করতে হবে।
কথাটা মন দিয়ে পড়ুন। নামার সময় পাসপোর্টে যে কাগজটা থাকে, সেটা একটামাত্র দেশে ঢোকার অনুমতি। পরে যেসব অধিকার আসে, তা আসে রেসিডেন্স পারমিট থেকে — ভিসা স্টিকার থেকে নয়। কেউ যদি Romania-কে পশ্চিম ইউরোপে ঢোকার পেছনের দরজা হিসেবে বিক্রি করতে চান, তিনি এমন কিছু বিক্রি করছেন যা Romania সরকার নিজে ওভাবে বর্ণনা করে না।
Romania-য় পৌঁছানোর প্রথম ৩০ দিনে কী করতে হয়?
ভিসা আপনাকে ঢোকায়। থাকার অধিকার দেয় রেসিডেন্স পারমিট — আর হাতে সময় কম।
- প্রশ্নের জন্য তৈরি হয়ে নামুন। Study in Romania পোর্টাল সতর্ক করছে, বিমানবন্দরে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বেশ কড়া — ভিসা যাচাইয়ের পাশাপাশি Romania-য় আপনার আয় ও থাকার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন হতে পারে।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি শেষ করুন। রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন ভর্তির পরে হয়, আগে নয়।
- প্রথম ৩০ দিনের মধ্যেই IGI-র আঞ্চলিক অফিসে যান। Romania-র ভিসা নির্দেশিকা নির্দিষ্ট করে বলছে, দেশে ঢোকার তারিখ থেকে প্রথম ৩০ দিনের মধ্যেই General Inspectorate for Immigration-এর আঞ্চলিক ব্যুরোতে যোগাযোগ করতে হবে।
- পুরো ফাইল নিয়ে যান। আবেদন ফরম, পাসপোর্টের মূল কপি ও ফটোকপি, Letter of Acceptance (কেবল প্রথম নবায়নের সময় লাগে), শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্টিফিকেট, জীবিকা নির্বাহের সামর্থ্যের প্রমাণ, বসবাসের জায়গার আইনি অধিকারের প্রমাণ, মেডিকেল সার্টিফিকেট আর ফি।
- প্রতি বছর নবায়ন করুন। স্টুডেন্ট রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ এক বছর, প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়। বৃত্তিপ্রাপ্তদের সাধারণত পুরো পড়াশোনার মেয়াদের জন্যই পারমিট দেওয়া হয়।
পরে যদি পড়ার বিষয় বা বিশেষায়ণ বদলাতে চান, তা সম্ভব — শর্ত হলো শুরুতে নির্ধারিত মোট সময়সীমা যেন না ছাড়ায়। নতুন প্রোগ্রামে বেশি সময় লাগলে নতুন করে long-stay study visa নিতে হবে।
পড়াশোনার পাশাপাশি কি কাজ করা যায়?
যায় — তবে এখানে এমন একটা বিষয়ে সৎ থাকা দরকার যা Romania সরকার নিজেই পরিষ্কার করেনি। আপনি এর ওপর বাজেট সাজানোর চেয়ে বরং আগেই জেনে রাখুন।
একই সরকারি Study in Romania ওয়েবসাইটের দুটি পাতা দুরকম উত্তর দিচ্ছে। Working FAQ বলছে, স্টুডেন্ট রেসিডেন্স পারমিট থাকলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের work permit লাগে না, আর তাঁরা দিনে ছয় ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। অন্যদিকে রেসিডেন্স পারমিটের পাতা বলছে, স্টুডেন্ট পারমিট থাকলে কেবল খণ্ডকালীন — দিনে চার ঘণ্টা — কাজ করা যায়, এবং সে জন্য work permit নিতে হবে।
একই সরকারি পোর্টাল, অথচ ঘণ্টার সীমা আর work permit — দুটি প্রশ্নেই পরস্পরবিরোধী উত্তর। Romania কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মিলিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ পরিকল্পনা হলো কড়া হিসাবটাই ধরা: দিনে চার ঘণ্টা, আর ধরে নিন work permit লাগতে পারে। পৌঁছে General Inspectorate for Immigration-এ নিশ্চিত হয়ে নিন। আর খণ্ডকালীন আয়কে কখনোই তহবিলের প্রমাণের অংশ হিসেবে দেখাবেন না — Romania যাত্রার আগেই টাকা দেখাতে বলে, ঠিক এ কারণেই যে তারা ধরে নেয় না আপনি সেখানে গিয়ে আয় করবেন।
Romania নিয়ে Eduvisa-য় আমরা যা দেখি
সোজাসুজি বলে রাখি — Malta, Italy, UK, Malaysia বা Cyprus-এর মতো নিয়মিত ফাইল আমরা Romania-র করি না; আমাদের জন্য এটি তুলনামূলক নতুন গবেষণা। এই লেখাটা প্রকাশ করছি কারণ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কম খরচের ইউরোপ নিয়ে জানতে চাইছেন, আর পুনর্ব্যবহৃত বিজ্ঞাপনী কপির বদলে তাঁদের প্রাপ্য সঠিক তথ্য।
তবে ইউরোপের যেসব ফাইল আমরা প্রতি সপ্তাহে সামলাই, সেখান থেকে একটা কথা বলতে পারি — ব্যর্থতার ধরনটা প্রায় সব সময় একই, আর Romania-য় সেই তিনটি উপাদানই আছে। প্রথমত, একটা সরকারি প্রক্রিয়ার ধাপ যাকে শিক্ষার্থীরা হালকাভাবে নেন — এখানে ভিসা ফাইল খোলার আগেই মন্ত্রণালয়ের সেই ৩০ থেকে ৬০ দিন। দ্বিতীয়ত, এমন একটা কাগজি শর্ত যা কাগজে কী লেখা তার চেয়ে কে পাঠাচ্ছে তা নিয়ে — এখানে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, যা ব্যাংকের নিজস্ব ইমেইল ডোমেইন থেকে আসতে হবে। তৃতীয়ত, এমন এক এখতিয়ার যা ঢাকায় নয়, ফলে প্রতিটি সংশোধন দিনের হিসাবে নয়, সপ্তাহের হিসাবে দেরি ডেকে আনে।
এ ধরনের ফাইলে যাঁরা সফল হন, তাঁরা আগেভাগে শুরু করেন, চেকলিস্টের প্রতিটি লাইনকে আক্ষরিক অর্থে নেন, আর জমা দেওয়ার আগে ফাইলটা আরেক জোড়া চোখ দিয়ে দেখিয়ে নেন। শেষের কাজটাই আমরা করি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে Poland student visa ২০২৭ আর বাংলাদেশ থেকে Serbia student visa ২০২৭। কম খরচের ইউরোপ নিয়ে আরও বড় ছবি চাইলে দেখুন কম খরচে বিদেশে পড়ার গাইড, যেখানে গন্তব্য ধরে ধরে প্রথম বছরের মোট খরচ তুলনা করা আছে।
এই লেখায় ব্যবহৃত সরকারি সূত্র: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের Study in Romania রেসিডেন্স পারমিট পাতা এবং Romania-র eVisa পোর্টাল।
আবেদনের আগে যাচাই করে নিন। ভিসা ফি, ন্যূনতম মজুরির মানদণ্ড, টিউশনের অঙ্ক আর কনস্যুলার চেকলিস্ট বদলায় — কখনো মাঝপথেও। ওপরের প্রতিটি সরকারি তথ্য ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে Romania-র সরকারি সূত্রে মিলিয়ে দেখা হয়েছে; টিউশনের পরিসর আর ২০২৩ সালের ইন্টারভিউ ঘোষণা সেকেন্ডারি সূত্র থেকে নেওয়া এবং সেভাবেই চিহ্নিত। নিজের ক্ষেত্রে New Delhi-র Romanian দূতাবাস ও আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিশ্চিত হওয়ার বিকল্প এই লেখা নয়।
২০২৭ সালে Romania-র কথা ভাবছেন?
Romania তাঁদেরই পুরস্কার দেয় যাঁরা আগেভাগে শুরু করেন আর কাগজপত্র একেবারে ঠিকঠাক রাখেন — আর যাঁরা জুলাই মাসে এসে মন্ত্রণালয়ের ধাপের কথা জানতে পারেন, তাঁদের ভোগায়। বিশ্ববিদ্যালয় চূড়ান্ত করা বা টিউশনের কিস্তি দেওয়ার আগে একবার আমাদের সঙ্গে কথা বলুন। আপনার একাডেমিক প্রোফাইল, টাকার পরিকল্পনা আর হাতে থাকা সময় আমরা সৎভাবে দেখব, আর বলব Romania আপনার জন্য ঠিক আছে কি না, নাকি আমাদের পরিচিত কোনো গন্তব্য আপনাকে বেশি কাজে দেবে। আর গেলে পৌঁছানোর পরেও আমরা পাশে থাকি — এই কাজটাই বেশিরভাগ কনসালটেন্সি করে না।
ফ্রি কনসালটেশন বুক করুন →