প্রতি বছর অগাস্টের শেষে আমাদের অফিসে একই দৃশ্য ফিরে আসে। হাতে সেপ্টেম্বরের অফার লেটার নিয়ে একজন শিক্ষার্থী এসে জানতে চান, ভিসাটা কত তাড়াতাড়ি করা যায় — অথচ কোর্স শুরু হতে বাকি মোটে চার সপ্তাহ। সত্যি কথাটা হলো, এই উত্তরটা কয়েক মাস আগেই ক্যালেন্ডার ঠিক করে ফেলেছে। ২০২৭ সালের UK ইনটেক ক্যালেন্ডার আসলে একটা ডেডলাইন নয়, পাঁচটা আলাদা ঘড়ি — আর তার তিনটা এমন তারিখ থেকে উল্টোদিকে চলে, যেগুলো আপনি নড়াতে পারবেন না।
২০২৭ সালের UK ইনটেক ক্যালেন্ডারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি তারিখ পাকা: UCAS-এ ২০২৭ entry-র স্নাতক আবেদন জমা দেওয়া যাচ্ছে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে; Oxford, Cambridge, মেডিসিন, ডেন্টিস্ট্রি ও ভেটেরিনারির ডেডলাইন ১৫ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৬টা (UK সময়); আর বাকি প্রায় সব কোর্সের মূল ডেডলাইন ১৩ জানুয়ারি ২০২৭, বিকেল ৬টা (UK সময়)। Student visa-র আবেদন করা যায় কোর্স শুরুর ৬ মাস আগে থেকে।
এই লেখায় ২০২৭ সালের পুরো UK ইনটেক ক্যালেন্ডার সাজিয়ে দেওয়া হলো — UCAS-এর প্রতিটি তারিখ, ভিসার উইন্ডো, আর বাংলাদেশের জন্য বিশেষ দুটো ঘড়ি (TB সার্টিফিকেট আর ব্যাংকে ২৮ দিনের ব্যালান্স), যেগুলো চুপচাপ ঠিক করে দেয় সেপ্টেম্বর ২০২৭-এ আপনার যাওয়া বাস্তবসম্মত কি না। নিচের সব তারিখ UCAS ও GOV.UK থেকে নেওয়া, ৭ অগাস্ট ২০২৬ তারিখে যাচাই করা।
২০২৭ entry-র আবেদন কবে থেকে খোলা?
খোলা হয়ে গেছে অনেক আগেই। UCAS ২০২৭ entry-র স্নাতক আবেদন খুলেছে ১২ মে ২০২৬, আর পূরণ করা আবেদন UCAS-এ পাঠানো যাচ্ছে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে। কোর্স খোঁজার টুলে ২০২৭ সালের কোর্স দেখানো শুরু হয়েছে ২৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে।
"খোলা" আর "জমা দেওয়া যায়" — এই দুটোর ফারাকেই অনেকে ঠকেন। মে মাস থেকে আপনি আবেদন সাজাতে পারেন, personal statement লিখতে পারেন, রেফারেন্স জোগাড় করতে পারেন। তবে সেপ্টেম্বরের উইন্ডো না খোলা পর্যন্ত কোনো ফাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছায় না। অগাস্ট ২০২৬-এ যদি আপনি এটা পড়েন, তাহলে আপনি দেরি করেননি — বরং খসড়া তৈরির সবচেয়ে ভালো মাসে আছেন।
২০২৭ সাইকেলে UCAS আবেদন ফি £৩৪.৫০, আজকের রেটে প্রায় ৫,৭৫০ টাকা। এই এক ফিতেই পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ দেওয়া যায় — conservatoire হলে ছয়টি — আর পরে UCAS Extra ও Clearing-ও এর মধ্যেই পড়ে। প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা টাকা লাগে না, Clearing-এ ঢুকতেও বাড়তি ফি নেই।
২০২৭ entry-র UCAS ডেডলাইনগুলো কী কী?
আবেদনের ডেডলাইন একটা নয়, দুটো। তারপর উত্তর দেওয়া আর সিদ্ধান্ত জানানোর লম্বা একটা তালিকা আছে, যেগুলোর কথা বেশিরভাগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শোনেন কেবল আটকে যাওয়ার পর। পুরো সাইকেলটা একনজরে:
| তারিখ | কী হয় | কার জন্য |
|---|---|---|
| ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | পূরণ করা আবেদন UCAS-এ জমা দেওয়া যায় | সব স্নাতক আবেদনকারী |
| ১ অক্টোবর ২০২৬ | Conservatoire music ডেডলাইন, বিকেল ৬টা | সংগীতের আবেদনকারী |
| ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | Equal consideration তারিখ, বিকেল ৬টা | Oxbridge, মেডিসিন, ডেন্টাল, ভেট |
| ১৩ জানুয়ারি ২০২৭ | Equal consideration তারিখ, বিকেল ৬টা | বেশিরভাগ স্নাতক কোর্স |
| ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ | Extra খোলে | পাঁচটি শেষ, অফার নেই |
| ৩১ মার্চ ২০২৭ | সময়মতো জমা ফাইলের সিদ্ধান্ত দেওয়ার লক্ষ্য | জানুয়ারির আবেদনকারী |
| ৫ মে ২০২৭ | উত্তর না দিলে অফার আপনাআপনি বাতিল | অফারধারী |
| ৩০ জুন ২০২৭ | Clearing-এ যাওয়ার আগে শেষ জমা, বিকেল ৬টা | দেরিতে আবেদনকারী |
| ২ জুলাই ২০২৭ | Clearing খোলে | জায়গা না পাওয়া শিক্ষার্থী |
| ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৭ | ২০২৭ entry-র একেবারে শেষ তারিখ | চূড়ান্ত সীমা |
দুটো বিষয় একটু থেমে দেখার মতো। প্রথমে, UCAS ১৫ অক্টোবর আর ১৩ জানুয়ারি — দুটোকেই equal consideration তারিখ বলছে; অর্থাৎ ওই সময়ের মধ্যে আসা সব আবেদনকে বিশ্ববিদ্যালয়কে সমানভাবে বিবেচনা করতে হবে, আর আসন খালি থাকলে পরের আবেদনও তারা দেখতে পারে। বাস্তবে অবশ্য Oxbridge আর মেডিসিনের জন্য ১৫ অক্টোবর একরকম দেয়ালই। আর একটা কথা: রেফারেন্স সম্পূর্ণ না হলে আবেদন পাঠানোই যায় না — ডিসেম্বরে কলেজের রেফারি দেরি করলে বাংলাদেশি ফাইল ১৩ জানুয়ারি মিস করে, এটাই সবচেয়ে পরিচিত কারণ।
বাংলাদেশ থেকে UK Student visa-র আবেদন আসলে কবে করা যায়?
কোর্স শুরুর ৬ মাস আগে থেকে, যদি আপনি দেশের বাইরে থেকে আবেদন করেন। GOV.UK সরাসরি এটাই বলছে। সংখ্যাটা মনে রাখা জরুরি, কারণ বাংলাদেশে ঘুরে বেড়ানো অনেক পরামর্শে বলা হয় তিন মাস।
তিন মাসের নিয়মটা সত্যি — তবে সেটা তাঁদের জন্য, যাঁরা UK-র ভেতর থেকে আবেদন করছেন। বাংলাদেশ থেকে আবেদন করলে উইন্ডো খোলে কোর্স শুরুর ছয় মাস আগে। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৭-এ কোর্স শুরু হলে সেটা মোটামুটি ২০ মার্চ ২০২৭। কেউ যদি আপনাকে জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন, তিনি বিনা কারণে আপনার তিন মাসের নিরাপত্তা-সময় নষ্ট করছেন।
দেশের বাইরে থেকে করা Student visa আবেদনের সিদ্ধান্ত UKVI সাধারণত ৩ সপ্তাহের মধ্যে দেয়। আবেদনের সময় টাকা দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তের সুযোগ থাকলে সেটা আপনাকে জানানো হবে। ফি £৫৫৮, অর্থাৎ প্রায় ৯২,৯৫০ টাকা। এর সঙ্গে যোগ হয় healthcare surcharge, যেটা শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসার প্রতি বছরে £৭৭৬ বলে ব্যাপকভাবে উল্লেখ করা হয় — এই সংখ্যাটা আমরা কেবল সেকেন্ডারি সূত্রে পেয়েছি, তাই টাকা দেওয়ার আগে GOV.UK-র healthcare surcharge পাতায় মিলিয়ে নিন।
পৌঁছানোর সময়ও বাঁধা। কোর্স ছয় মাসের বেশি হলে শুরুর ১ মাস আগে, আর ছয় মাস বা কম হলে ১ সপ্তাহ আগে UK-তে ঢোকা যায়। তবে ভিসায় লেখা শুরুর তারিখের আগে কোনোভাবেই নয়, কোর্সের তারিখ যা-ই বলুক।
সেপ্টেম্বর ২০২৭ ধরবেন, নাকি জানুয়ারি ২০২৭?
স্নাতক পড়ার মূল ইনটেক সেপ্টেম্বর, আর UCAS-এর পুরো কাঠামোটাই এই ইনটেক ঘিরে তৈরি। জানুয়ারি ইনটেক মূলত স্নাতকোত্তরে আর কিছু নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু, এবং সেটা UCAS সাইকেলের অংশই নয়।
এই জায়গাটা প্রায় কেউ পরিষ্কার করে বলেন না: UCAS-এর ডেডলাইন শুধু স্নাতক আবেদনের জন্য। মাস্টার্সে আবেদন করলে জাতীয় কোনো ডেডলাইন নেই। আপনি সরাসরি প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবেন, বেশিরভাগ জায়গায় আবেদন আসামাত্র বিবেচনা হয়, আর জনপ্রিয় কোর্স আসন ভরে গেলেই বন্ধ হয়ে যায়। জানুয়ারি ২০২৭-এ মাস্টার্স শুরু করতে চাইলে সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন করতে হয় — তবে এটা কোর্সভেদে বদলায়, আর নির্ভরযোগ্য তথ্য কেবল সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পাতায়।
জানুয়ারিতে শুরু করলে হাতে বাড়তি চার মাস থাকে — ব্যাংকে ২৮ দিনের ব্যালান্স গোছানোর জন্য, IELTS-এ কোনো ব্যান্ড কম এলে আবার দেওয়ার জন্য, আর TB সার্টিফিকেটের সময়টা ঠিকমতো মেলানোর জন্য। সেপ্টেম্বরের সময় ভিসা সেন্টারে যে ভিড় থাকে, সেটাও এড়ানো যায়। বিনিময়ে কোর্সের সংখ্যা কম, স্কলারশিপ কম, আর গ্র্যাজুয়েশনের সময়টা UK-র চাকরির নিয়োগ-চক্রের সঙ্গে একটু বেমানান হয়ে যায়। কোন দিকটা ভারী হবে, সেটা পুরোপুরি আপনার ফাইলের ওপর নির্ভর করে — তাই এটা নিয়ম নয়, আলোচনার বিষয়।
বাংলাদেশে TB টেস্ট আর ইংরেজি পরীক্ষা কখন দেবেন?
পুরো টাইমলাইনে TB সার্টিফিকেটের পরিকল্পনাই সবচেয়ে কম হয়, কারণ এর মেয়াদ আপনার বিরুদ্ধে ছোটে।
ছয় মাস বা তার বেশি সময়ের জন্য UK যাচ্ছেন এবং বাংলাদেশে ছয় মাসের বেশি থেকেছেন — এমন হলে যক্ষ্মার পরীক্ষা লাগবেই। সার্টিফিকেট বুকের এক্স-রে করার তারিখ থেকে ৬ মাস কার্যকর। অর্থাৎ খুব আগে করালে ভিসার সিদ্ধান্তের আগেই মেয়াদ শেষ, আর খুব দেরিতে করালে জমা দিতে দেরি। সবচেয়ে ভালো সময় হলো CAS হাতে আসার কাছাকাছি সময়, প্রথম অফার পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নয়।
Home Office শুধু তাদের অনুমোদিত ক্লিনিকের সার্টিফিকেট নেয়। বাংলাদেশে এমন ক্লিনিক পাঁচটি, আর তার একটির কথা অনেক এজেন্টই এখনো জানেন না:
- চট্টগ্রাম — Green Crescent Medical Diagnostic, Khan Plaza, ১৪০৭ শেখ মুজিব রোড, আগ্রাবাদ
- ঢাকা — Green Crescent Health Services, ৬০ পার্ক রোড, বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোন
- ঢাকা — IOM Migration Health Assessment Clinic, UN House, রোড ৮৮, গুলশান ২
- সিলেট — Green Crescent MediLab, Time Square Building, শিবগঞ্জ পয়েন্ট
- সিলেট — IOM Migration Health Assessment Clinic, Medi-Aid Heart Centre, দরগা মহল্লা
প্রকাশিত ফি: Green Crescent-এ ১১ বছর ও তার বেশি বয়সে ৫,৫০০ টাকা, ১১-র নিচে ৩,৫০০ টাকা, আর বাড়তি পরীক্ষার প্রয়োজন হলে ১৪,০০০ টাকা। IOM ক্লিনিকে ৭০ মার্কিন ডলার ও ৩০ ডলার, যা তাদের নিজস্ব বিনিময় হারে টাকায় দিতে হয়। Green Crescent-এর ঢাকা ও সিলেট ক্লিনিক বলছে, আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগে না।
যে টাকা ফেরত আসে না: প্রতিটি ক্লিনিকই লিখে রেখেছে, TB পজিটিভ এলে, যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলালে কিংবা ভিসা রিফিউজ হলে টেস্ট ফি ফেরতযোগ্য নয়। চিকিৎসার খরচও এর মধ্যে নেই। ৭ অগাস্ট ২০২৬-এ GOV.UK-তে ফি ও ঠিকানা এমনই ছিল — তালিকাটা মাঝেমধ্যে হালনাগাদ হয়, তাই যাওয়ার আগে পাতাটা আরেকবার দেখে নিন।
ইংরেজি পরীক্ষা টাইমলাইনের আরেকটা মেয়াদি কাগজ। বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় অফারের সময়েই কার্যকর স্কোর চায়; সেপ্টেম্বর ২০২৭-এর জন্য সেটা মানে ২০২৬-এর শেষ দিক বা ২০২৭-এর একেবারে শুরুতে পরীক্ষা দেওয়া — এতটা আগে, যাতে কোনো ব্যান্ড কম এলে ভিসার উইন্ডোয় হাত না দিয়েই আবার দেওয়া যায়। আমরা সাধারণত পরামর্শ দিই, প্রথমবারেই হয়ে যাবে ধরে না নিয়ে দ্বিতীয়বারের সুযোগ রেখে পরিকল্পনা করুন।
ব্যাংকে টাকা কখন থাকতে হবে?
এই ঘড়িটাই সবচেয়ে বেশি আবেদন চুপচাপ বাতিল করে দেয়, আর ২৮ দিন এখানে পরামর্শ নয় — শর্ত।
লন্ডনের কোর্স হলে মাসে £১,৫২৯, লন্ডনের বাইরে হলে মাসে £১,১৭১ দেখাতে হবে, সর্বোচ্চ ৯ মাসের জন্য, প্রথম বছরের টিউশনের পাশাপাশি। টাকাটা অ্যাকাউন্টে টানা অন্তত ২৮ দিন থাকতে হবে, আর সেই ২৮ দিনের শেষ তারিখ আবেদনের তারিখের ৩১ দিনের মধ্যে পড়তে হবে।
আজকের প্রায় ১৬৬.৫৮ টাকা প্রতি পাউন্ড হিসাবে নয় মাসের খরচ দাঁড়ায় লন্ডনের বাইরে প্রায় ১৭.৬ লাখ টাকা আর লন্ডনে প্রায় ২২.৯ লাখ টাকা — টিউশন বাদে। পরিবার যখন টাকা পাঠানোর পরিকল্পনা করে, এই অঙ্ক থেকেই উল্টো গুনতে হয়।
GOV.UK প্রায় ৬০টি দেশ ও অঞ্চলের একটি "differential evidence requirement" তালিকা প্রকাশ করে, যাদের নাগরিকদের এই টাকা আছে বলে প্রমাণ দিতে হয় না। Malaysia, Malta, Republic of Cyprus, Singapore, China — সবাই ওই তালিকায়। বাংলাদেশ নেই। অর্থাৎ বাংলাদেশি আবেদনকারীকে প্রতিটি ক্ষেত্রেই পুরো আর্থিক প্রমাণ জমা দিতে হবে। তাই মালয়েশিয়ান বা চীনা কোনো সহপাঠীর অভিজ্ঞতা দেখে পরিকল্পনা করলে সেটা আপনার ক্ষেত্রে খাটবে না।
২০২৭-এর টাইমলাইনে খরচ কত, আর কখন দিতে হয়?
কোন খরচ কোন মাসে পড়ছে জানা থাকলে টাকাটা ভাগ করে সামলানো অনেক সহজ।
| খাত | খরচ | কখন |
|---|---|---|
| UCAS আবেদন | £৩৪.৫০ (~৫,৭৫০ টাকা) | সেপ্টেম্বর–ডিসেম্বর ২০২৬ |
| ইংরেজি পরীক্ষা | কেন্দ্রভেদে আলাদা | ২০২৬-এর শেষ দিক |
| TB টেস্ট | ৫,৫০০ টাকা বা ৭০ ডলার | CAS-এর কাছাকাছি সময় |
| Student visa ফি | £৫৫৮ (~৯২,৯৫০ টাকা) | ৬ মাস আগে থেকে |
| Healthcare surcharge | বছরে £৭৭৬ (উল্লিখিত) | ভিসার টাকার সঙ্গে |
| ব্যাংকে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ | মাসে £১,১৭১–£১,৫২৯ | আবেদনের ২৮ দিন আগে |
সেপ্টেম্বর ২০২৭-এ শুরু করতে হলে ধাপগুলো কোন ক্রমে?
এখন থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ — বাছাই ও জমা
UCAS-এর পাঁচটি পছন্দ চূড়ান্ত করুন, রেফারেন্স সম্পূর্ণ করান, ১৩ জানুয়ারি ২০২৭-এর অনেক আগেই জমা দিন। তালিকায় Oxbridge বা মেডিসিন থাকলে আপনার আসল ডেডলাইন ১৫ অক্টোবর ২০২৬।
২০২৬-এর শেষ থেকে ২০২৭-এর শুরু — ইংরেজি পরীক্ষা
এতটা আগে দিন, যাতে দ্বিতীয়বার দেওয়ার সুযোগ থাকে এবং ভিসার উইন্ডোয় হাত দিতে না হয়।
বসন্ত ২০২৭ — অফার, উত্তর, ডিপোজিট
UCAS-এর দেওয়া তারিখের মধ্যে উত্তর দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাওয়া টিউশন ডিপোজিট দিন, আর থাকার জায়গা খোঁজা শুরু করুন।
মোটামুটি মার্চ ২০২৭ থেকে — ভিসার উইন্ডো খোলে
কোর্স শুরুর ছয় মাস আগে। CAS চান, ২৮ দিনের তহবিল অ্যাকাউন্টে বসান, TB টেস্টের সময় ঠিক করুন।
গ্রীষ্ম ২০২৭ — জমা, তারপর যাত্রা
সিদ্ধান্ত সাধারণত ৩ সপ্তাহে। কোর্স শুরুর ১ মাসের বেশি আগে নয়, আর ভিসার শুরুর তারিখের আগে তো নয়ই।
বাংলাদেশের টাইমলাইনে সবচেয়ে বেশি কী ভুল হয়?
Eduvisa-তে আমরা যা দেখি, তাতে দুর্বল শিক্ষার্থীর সমস্যা খুব কম। প্রায় সব সময়েই সমস্যাটা সময়ের সংঘর্ষ — তিনটি কাগজ, যার প্রতিটি আলাদাভাবে ঠিক ছিল, কিন্তু ক্রমটা এমন হয়েছে যে মেলানো অসম্ভব।
- সেপ্টেম্বরের কোর্সের জন্য জানুয়ারিতে TB টেস্ট, ভিসা জমার আগেই মেয়াদ শেষ
- আবেদনের ২০ দিন আগে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকানো, ২৮ দিন নয়
- রেফারেন্স সময়মতো না হওয়ায় UCAS ফাইল ১৩ জানুয়ারি মিস করা
- "তিন মাস আগে" ভেবে বসে থেকে মার্চ–জুনের পুরো সময়টা হারানো
- CAS আবার ব্যবহার করা যাবে ধরে নেওয়া — বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত এটিকে ৬ মাস কার্যকর ও একবার ব্যবহারযোগ্য বলে জানায়
- ভিসার শুরুর তারিখ পরে হওয়া সত্ত্বেও সেপ্টেম্বরের শুরুতে ফ্লাইট বুক করা
- মাস্টার্সের পরিকল্পনা UCAS-এর তারিখ ধরে করা, যেগুলো স্নাতকোত্তরে খাটেই না
কাজে নামার আগে যাচাই করুন: উপরের UCAS ও GOV.UK-র তারিখগুলো ৭ অগাস্ট ২০২৬-এ সরাসরি সরকারি পাতা থেকে পড়া, আর GOV.UK-র Student visa পাতাগুলো নিজেরাই হালনাগাদ হয়েছে ৬ অগাস্ট ২০২৬-এ। ফি ও নিয়ম বদলায় — বিশেষ করে healthcare surcharge আর CAS-এর মেয়াদ, যে দুটোকে আমরা প্রাইমারি নয়, উল্লিখিত তথ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছি। আপনার টাকা বা যোগ্যতার সঙ্গে জড়িত যেকোনো তথ্য সরকারি পাতায় কিংবা আমাদের সঙ্গে মিলিয়ে নিয়ে তবেই সিদ্ধান্ত নিন।
আরও পড়ুন: UK স্টুডেন্ট ভিসার শর্ত ২০২৭ এবং UK স্টুডেন্ট ভিসার ব্যাংক স্টেটমেন্টের নিয়ম। এখনো দেশ বাছাই করতে না পারলে আগে দেখে নিতে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য দেশ তুলনা। সরকারি সূত্র: UCAS key dates timeline ও GOV.UK Student visa।
আপনার ২০২৭-এর তারিখগুলো একসঙ্গে সাজিয়ে নিই
প্রতিটি টাইমলাইনই একটু আলাদা — কোর্স শুরুর তারিখ, টাকার উৎস, পরীক্ষার ইতিহাস, পরিবারের ব্যাংক ব্যবস্থা, সবই তারিখ বদলে দেয়। আপনার অফার বা পছন্দের তালিকা নিয়ে আসুন, আমরা আপনার ফাইলের জন্য আসল ক্যালেন্ডারটা বানিয়ে দেব — আর পৌঁছানো ও সেখানে থিতু হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকব।
ফ্রি পরামর্শের জন্য বুক করুন →


